জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 2-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন-তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না কেন? অনেকেই সরলভাবে প্রশ্ন তোলেন, তিনি কি দেশকে ভালোবাসেন না? কিন্তু এর পেছনের বাস্তবতা অনেক গভীর। রয়েছে এক সন্তানের মায়ের প্রতি অসীম টান, রয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, এবং রয়েছে অতীতের নির্মম ইতিহাস।

মায়ের জন্য সন্তানের হৃদয়ভাঙা অপেক্ষা

তারেক রহমান বহুবার বলেছেন-বাংলাদেশই তাঁর হৃদয়, তাঁর শেকড়। সবচেয়ে বেশি ব্যথা তাঁর মায়ের অসুস্থতা। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রতিদিন তাঁর মনে এক অসহনীয় যন্ত্রণার জন্ম দেয়। একজন সন্তানের কাছে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে! প্রতিটি সকাল তাঁর কাছে নতুন প্রশ্ন-“কবে আমি মায়ের পাশে দাঁড়াতে পারব?”

চিকিৎসার প্রস্তুতির টানাপোড়েন

চিকিৎসকদের মতে বেগম জিয়ার জরুরি উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। যে কোনো সময় তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেই প্রস্তুতিতেই লন্ডনে প্রতিটি দিন কাটাচ্ছেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
লন্ডন এখন তাদের জন্য বিশ্রামের ঠিকানা নয়-এটি মায়ের জীবন বাঁচানোর অপেক্ষার ঘর।

অতীতের নির্মমতা এখনও ভীতিকর স্মৃতি

তারেক রহমানের দেশে না ফেরার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো তাঁর উপর বিদ্যমান নিরাপত্তা ঝুঁকি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি যে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তা এখনও তাঁর পরিবার ও দলের কাছে তাজা ক্ষত।
রাষ্ট্রযন্ত্রের নামে সেই সময়ে যে নির্মমতা চালানো হয়েছিল, তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ উদাহরণ। যখন রাষ্ট্র নিজেই প্রতিশোধে মেতে ওঠে, তখন সুরক্ষা ছাড়া দেশে ফেরা বীরত্ব নয়-এটি ফাঁদ।

আজও সেই ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু আবেগ নয়; এটি রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।

দূরে থেকেও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন

বিদেশে থেকেও তারেক রহমান বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে। তাঁর নীতি-অগ্রাধিকার-কৃষি, স্বাস্থ্য, তরুণ-যুবক ও নারীদের জীবনমান উন্নয়ন।
দূরত্ব তাঁর নেতৃত্বকে কমিয়ে দেয়নি; বরং আরও তীক্ষ্ণ করেছে।

এখনই কেন ফিরছেন না?-প্রশ্নের উত্তর

একজন দায়িত্ববান নেতা কখনো শুধুই আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না। সঠিক সময়, সঠিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা-এ তিনটি বিষয় পূরণ হলেই তিনি ফিরবেন।
আজ তাঁর প্রথম দায়িত্ব-মায়ের জীবন রক্ষা। আর দ্বিতীয় দায়িত্ব-দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা।

“ফেরা তাঁর হবেই-তবে তা হবে প্রস্তুত হয়ে”

তারেক রহমানের দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তাঁর প্রত্যাবর্তন হবে শক্ত অবস্থানে, নিরাপদে এবং জনগণের অধিকারের আন্দোলনকে সামনে রেখে।
সেদিনই হবে বাংলাদেশের নতুন সূচনার দিন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্গাপুরে ওয়াজেদ আলী হত্যা মামলার ৪ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

1

কিশোরগঞ্জে নিজ এলাকায় এলেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব

2

কুষ্টিয়া ১ আসনে মনোনয়ন ঘোষণার পরে বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ ও

3

বান্দরবানের লামায় ফুটবল খেলায় ব্যাজ পরানো কে কেন্দ্র করে চ

4

বরিশালে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নারী-পুরুষ

5

নিয়ামতপুরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা

6

ইসরায়েলি হামলায় হুইল চেয়ারে বসা অবস্থায় অঙ্গার হলো শিশু আহমে

7

কোম্পানীগঞ্জের নভাগী অবৈধ বালু পাথর বাহী ট্র্যাক্টরের তাণ্ডব

8

নবাবগঞ্জে ব্রিজের ধারের রাস্তা ধস, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

9

জামিন থেকে বেরিয়েই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার নেতৃত্বে বিএনপির নে

10

মুরাদনগর বাখরাবাদে কায়কোবাদের নির্বাচনী গণসংযোগ

11

জিয়া পরিষদ বিরল উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে স্মরণ সভা ও দোয়া

12

জোর করে দরজা বন্ধ করে যাত্রীদের ওপর হামলা - ছিনতাইচক্রের বির

13

কাপাসিয়া রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষাবর্ষ

14

আশাশুনিতে জেলা প্রশাসকের নারী সমাবেশে বক্তব্য ও বিনোদন কেন্দ

15

বন্দরে শীতলক্ষ্যা সেতুর টোলপ্লাজায় বাসের ধাক্কায় আহত অন্তত ১

16

সাংবাদিক তুহিন হ*ত্যা*র বিচারের দাবিতে পটুয়াখালীতে মানববন্ধ

17

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যক্তিগত জমির ওপর জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ,

18

বোরহানউদ্দিনে জামায়াতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কোন ভূমিকা নেই

19

কালিগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

20