সবজি চাষে নীরব বিপ্লব: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ এখন ‘সবজির উপজেলা’

একসময় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় লোনা পানির প্রভাব ও এক ফসলি জমির কারণে কৃষিতে সীমাবদ্ধতা থাকলেও, বর্তমানে সেই চিত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ঘেরের পাড়ে ও পতিত জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি পুরো এলাকাকে ‘সবজির উপজেলা’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ঘেরের পাড়ে সবজির সমারোহ

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, চিংড়ি ও মাছের ঘেরের বেড় (পাড়) কাজে লাগিয়ে শসা, করলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, টমেটোসহ নানা জাতের সবজি চাষ হচ্ছে। ঘেরের আইলে ও পানির ওপর বাঁশের মাচা তৈরি করে ভাসমান বা ঝুলন্ত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। এতে একদিকে মাছ চাষ হচ্ছে, অন্যদিকে কম খরচে বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদিত হচ্ছে।

কৃষকদের সাফল্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান বা মাছ চাষের পাশাপাশি সবজি চাষ তাদের জন্য একটি বাড়তি আয়ের বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। রাসায়নিক সার ও বিষের অপব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছেন তারা। মোরেলগঞ্জের উৎপাদিত এসব তরতাজা ও বিষমুক্ত সবজি কেবল স্থানীয় চাহিদাই মেটাচ্ছে না, প্রতিদিন ট্রাক ভরে চালান হচ্ছে খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ঘেরের পাড় ও পতিত জমি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ, কারিগরি পরামর্শ এবং উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের ফলে উপজেলায় সবজি চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ অঞ্চলের কৃষকরা যে মডেল তৈরি করেছেন, তা উপকূলীয় অন্য অঞ্চলের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

​পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় বাজারজাতকরণ সুবিধা আরও উন্নত হলে মোরেলগঞ্জের সবজি চাষ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন