সোমবার,২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভ্যাপসা গরমে নাকাল নড়াইলের মানুষজন ; বাড়ছে অসুস্থতাসহ নানা রোগব্যাধি

একে তো তাপমাত্রা বেশি, তার ওপর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে কাহিল হয়ে পড়েছেন নড়াইলের সাধারণ মানুষ। ঘাম ঝরানো এই আবহাওয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বের হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষজন। বিশেষ করে দিনমজুর, শ্রমিক, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে কর্মরত মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে , মঙ্গলবার (৩ জুন) নড়াইলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, বাতাসে আর্দ্রতা ৫৪ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করায় প্রকৃত অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হয়।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং মানুষের অস্বস্তি বাড়ে, বাড়ে ভোগান্তি।
চিত্রা নদী বিধৌত নড়াইল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ‘প্রয়োজন অথবা জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। তীব্র তাপদাহ এবং মধ্য জৈষ্ঠ্যের ভ্যাপসা গরমের কারণে সকাল ১১টার পর পরই শহরের জনবহুল এলাকাগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ভর দুপুরে গোটা শহর খা খা করছে। আর যারা
রাস্তাঘাট, বাজার ও কর্মস্থলে কর্মরত তাদের  অনেকেই ঘন ঘন পানি পান করছেন।
দুপুরের পর থেকে শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকা, ঐতিহ্যবাহী রূপগঞ্জ বাজার, হাতিরবাগান, পুলিশ লাইনস্ এলাকা, বাঁধাঘাট
এলাকায় মানুষের হাঁটাচলায় ক্লান্তির ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক দোকানদার ও পথচারীকে বারবার মুখ ও মাথায় পানি দিতে দেখা গেছে।
জেলার প্রবীণ সাংবাদিক ভক্ত সরকার বলেন, ‘জলবায়ুর যে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট টের পাচ্ছি। জৈষ্ঠ্যমাসের অসহনীয় গরমে প্রকৃত:পক্ষেই নাজেহাল হচ্ছে মানুষজন’।
ভ্যানচালক শ্রীবাস রায়, জমির উদ্দিন, জহির
বলেন, ‘সকাল থেকে ভ্যান চালাচ্ছি। রোদ আগের মতো তীব্র না হলেও গরমে শরীর ভিজে যাচ্ছে। বারবার পানি খেতে হচ্ছে। একটু পরপরই ক্লান্ত লাগছে’।
পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকার প্রদীপ সরকার বলেন, ‘সারাদিন কাজ করতে গিয়ে প্রচুর ঘাম হচ্ছে। মাথা ঝিমঝিম করে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি আর স্যালাইন খেতে হচ্ছে।
লোহাগড়া শহরের লক্ষ্মীপাশা এলাকার গৃহিণী রেশমা বেগম বলেন, ‘বাসার ভেতরেও অস্বস্তি লাগছে। ফ্যান চললেও গরম কমছে না। তীব্র গরমে অস্বস্তিকর অবস্থা’
চিকিৎসকরা বলছেন, ‘অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমিভাব, রক্তচাপের ওঠানামা এবং তাপজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এতে করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এদিকে, ভ্যাপসা গরমের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে হাসপাতালগুলোতেও। নড়াইল সদর  হাসপাতালসহ জেলার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গরমজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে’।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে।
নড়াইল জেলা সিভিল সার্জন মো: আব্দুর রশিদ
বলেন, ‘বর্তমানে তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় মানুষ বেশি অস্বস্তি অনুভব করছে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকের পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও অন্যান্য তাপজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা বাইরে কাজ করেন তারা অবশ্যই পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করবেন। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজন হলে ওরস্যালাইন বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত স্যালাইন গ্রহণ করা উচিত নয়। শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।
দুপুরের প্রচণ্ড ভ্যাপসা আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে গেলে ছাতা, টুপি বা হালকা রঙের সুতি পোশাক ব্যবহার করা উচিত। কারও মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে বলে জানান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা