মঙ্গলবার,৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনাজপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন, পান্তা উৎসবে মিলনমেলা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পান্তা উৎসব। দিনাজপুর স্টেশন ক্লাব (অফিসার্স ক্লাব) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসব পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়, যেখানে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপন দেখা যায়।
নববর্ষকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। উৎসবমুখর পরিবেশে সেজে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের প্রতীক পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, শাক-সবজি ও নানা গ্রামীণ খাবারের আয়োজন ছিল বিশেষ আকর্ষণ। অংশগ্রহণকারীরা আনন্দঘন পরিবেশে এসব ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। এই ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আরও বলেন, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানস্থলে ছিল বৈশাখী সজ্জা, গ্রামীণ আবহ এবং উৎসবের আমেজ। কেউ পরেছেন পাঞ্জাবি, কেউবা লাল-সাদা শাড়ি—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব বাঙালিয়ানার দৃশ্যপট তৈরি হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এ ধরনের উৎসব সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং মানুষের মাঝে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।
সব মিলিয়ে, বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর এই পান্তা উৎসব দিনাজপুরবাসীর মনে নতুন বছরের জন্য এক আশাব্যঞ্জক বার্তা বয়ে এনেছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন