গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জোনায়েদ সাকী বলেছেন, “একটি রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ের বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।”
শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংগ্রামের স্মৃতিচারণ জনসভার শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। জোনায়েদ সাকী বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সহ-সভাপতি নয়ন মিয়া পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানে আশিক, তুহিন, ইসমাইল ও ইমরানের রক্ত বাঞ্ছারামপুরবাসীকে গৌরবান্বিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
জাতীয় ঐক্য ও সংস্কারের আহ্বান প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে সাকী বলেন, “মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করে কৃষক-শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যুগপৎ জোটের পক্ষে ভোট চেয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার ও ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাঞ্ছারামপুরের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা এলাকার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঞ্ছারামপুরে রাস্তাঘাট সংস্কার, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, মেঘনা ব্রিজ নির্মাণ, বেরিবাঁধ তৈরি এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এছাড়া কৃষক, শ্রমিক, ইমাম ও পুরোহিতসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি
আরও বলেন, বাঞ্ছারামপুরে যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থী হচ্ছে মাথলা মার্কা। মাথলাই হচ্ছে বাঞ্ছারামপুরের ধানের শীষ।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক পিএসসি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একে এম ভিপি মুসা ও সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ আকাশের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, জিয়া উদ্দিন জিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি একে এম মূসা,
জেলা বিএনপির সদস্য সালে মুসা,পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক সাঈদ,উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধাণ সমন্বয়কারী শামীম শিবলী সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


