খুলনার পাইকগাছায় আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা জমি জবরদখল, বসতবাড়ি ভাঙচুর, পুকুরের মাছ লুট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী অভিযোগ করেন, পাইকগাছার রাড়ুলী এলাকার প্রখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার পিসি রায়ের বংশধরদের মালিকানাধীন ৮ একর ১২২ শতক জমি একসময় খুলনা সাব-জজ ৪র্থ আদালতের মাধ্যমে নিলামে ওঠে। পরে আইনানুযায়ী অমূল্য বসু জমিটি ক্রয় করেন এবং তার কাছ থেকে তাদের পরিবারের পক্ষে আকমান আলী গোলদার আমমোক্তারনামা গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জমিটি সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ তা নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে। এ রেকর্ডের বিরুদ্ধে আকমান আলী গোলদার হাইকোর্টে রিট আপিল করেন। ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ডিসিআর প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের ওই নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে জবেদ মোড়ল ও তার সহযোগীরা প্রায় ৬ একর ৯৩ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবশিষ্ট প্রায় ১ একর ১৯ শতক জমিতে তাদের বসতবাড়ি ও পুকুর রয়েছে। সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা পুকুরের মাছ লুট করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছে এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, তাদের নামে ১৯৬৭-৬৮ সাল থেকে ৩০ শতক জমির বৈধ ডিসিআর থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক পাকা ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে পুকুর, মাছ ও অন্যান্য সম্পদ দখল করে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ঘটনায় মো. জবেদ মোড়ল, মো. ছাত্তার মোড়ল, মো. ইসলাম গাজী, মো. খালেক গোলদার, মো. রফিকুল গাজী রফিক, মো. হামিদ গাজী, হান্নান গোলদার, ফারুক মোড়ল, সাদ্দাম মোড়ল, ছবেদ মোড়ল, ইউনুচ গোলদার ও আনিচ গোলদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জবরদখল ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জমি দখল, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মাছ লুটের ঘটনা ঘটছে, সেটি প্রশাসনের কাছে তার প্রশ্ন। তিনি এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিরোধপূর্ণ জমিতে অবৈধ দখল বন্ধ, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।


