দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রাণনাথপুর মৌজায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কৌশলে জমি রেজিস্ট্রি করার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে কাচারী চত্বরে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুর কাচারী চত্বর সংলগ্ন সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রাণনাথপুর মৌজার একটি বিতর্কিত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী মহল আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে গোপনে জমিটি রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৃত ভোগদখলকারীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে নারীসহ প্রায় সাতজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, দিনাজপুর মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা মোছাঃ সুজরভি (সুজন) ও অন্যান্যরা দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৩৯ অর্ডার ১/২ রুল ও ১৫১ ধারা মোতাবেক মোঃ মাহবুব আলী (লিটন) গংদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। বিবাদীরা বিতর্কিত জমিটি কোনো ডেভেলপার বা তৃতীয় পক্ষের নিকট হস্তান্তরের চেষ্টা করলে আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে জমিটি যাতে হস্তান্তর না হয়, সে বিষয়ে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “উক্ত জমি রেজিস্ট্রির জন্য বর্তমানে কোনো নথি আমার দপ্তরে উপস্থাপিত হয়নি। নিয়মবহির্ভূতভাবে জমি রেজিস্ট্রির কোনো সুযোগ নেই। আদালতের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
জমির তফসিল:
মৌজা: প্রাণনাথপুর (জে.এল নং-৬৩), কোতয়ালী, দিনাজপুর
সি.এস খতিয়ান নং: ৬৬৯
দাগ নং: ৬৬২৩
পরিমাণ: ২২.০০ একর
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার রায়ের পরও একটি প্রভাবশালী মহল দরিদ্র মানুষের জমি দখল ও বিক্রির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


