সোমবার,২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিগন্ত জুড়ে পাঁকা ধান, বৈরী আবহাওয়ায় বিপাকে নড়াইলের কৃষককূল

নড়াইলের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে ভরে আছে পাঁকা ধান। ধান পেঁকে সোনালী রং ধারন করেছে। ধানের ফলন ভালো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাঁকা ধান কাটা, মাড়াই করা ও শুকানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
মাঠের অধিকাংশ ধান কাটার উপযুক্ত হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। যে সকল কৃষক ধান কেটে মাঠে  রেখেছেন, তারাও আছেন দুশ্চিন্তায়। ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঠে থাকা কাটা ধান বাড়িতে আনতে পারছেন না।
নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর, মুলিয়া, মির্জাপুর, হবখালী, মাইজপাড়া, চন্ডিবরপুর, আউড়িয়া, লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা, দিঘলিয়া, কাশিপুর, জয়পুর, শালনগর, নোয়াগ্রাম, ইতনা, নলদী, কোটাকোল, লাহুড়িয়া, লোহাগড়া এবং কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী, খাশিয়াল, কলাবাড়িয়া, বাঐসোনাসহ অধিকাংশ এলাকায় সম্প্রতি ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধানের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠের পাঁকা ধান আর কাটা ধান নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তা কেবলই বাড়ছে।
শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে নড়াইল জেলা সদরের ধান সমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি মাঠ ও বিল ঘুরে দেখা গেছে, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠ ও বিলের পাঁকা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এসব ধান নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের
আমাদা গ্রামের ধানচাষী এসকেন মৃধা, গন্ডব গ্রামের মন্নু মিয়া, কুমড়ি গ্রামের জান্নাত হোসেন সহ অনেক কৃষক জানায়, ‘দুইদিন আগে প্রচণ্ড রোদ দেখে ধান কেটে রেখেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা ঘরে তুলতে পারি নাই। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবহাওয়ার খবরে জানতে পারলাম যে, এমন বৈরী আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত
থাকবে। এমন খবরে আমরা খুবই হতাশ হয়ে পড়েছি। এতে করে, ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে। কৃষি শ্রমিকের মুল্য ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। তাছাড়া, আবার ধানের দামও কম। এযেন মরার উপর খাড়া ঘা ! আকাশে মেঘ দেখা দিলে আমাদের প্রেসার বেড়ে যায়। আমরা খুব খারাপ অবস্থার মাঝে আছি’। একই অবস্থা কালিয়া উপজেলার কৃষকদের।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে , এ বছর নড়াইল জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার তিনটি উপজেলায়  বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ভালো।
কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই এবং ধান শুকানো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরিফুর রহমান জানান,ঘনঘন ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের মাঝে শঙ্কা তৈরী হয়েছে। এ জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা, মাড়াই এবং শুকানো নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া আবহাওয়া খবরের বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে বলে জানান কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা