রবিবার,২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

​গাজীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশাল সচেতনতামূলক র‍্যালি ও যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

​”মশা মশার কাজ করছে, মানুষ হিসেবে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করছেন কিনা?” — ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপস্থিত সবার প্রতি এমন তীক্ষ্ণ ও আত্মোপলব্ধিমূলক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া।
​আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, সিভিল সার্জন অফিস এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক র‍্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
​বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ
​এদিন সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি শুরু হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। ‘ঝোপঝাড় ও জমে থাকা পানিতেই লুকিয়ে আছে জীবনসংহারী ডেঙ্গু’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
​’স্বচ্ছ পানিতেই লুকিয়ে আছে মরণ’
​সমাবেশে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, ডেঙ্গু কোনো সাধারণ জ্বর নয়, এটি একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। ‘এডিস ইজিপ্টাই’ নামক স্ত্রী মশার কামড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। এই মশা সাধারণত লার্ভা বা ডিম পাড়ার জন্য অপরিষ্কার ড্রেন নয়, বরং ঘরের ভেতরের বা আশপাশের “স্বচ্ছ ও স্থির পানি” বেছে নেয়। মাত্র এক চা-চামচ জমানো পানিতেও এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
​বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমিয়ে দেয়। এটি যখন ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ বা ‘টক্সিক শক সিন্ড্রোম’-এ রূপ নেয়, তখন অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন—লিভার, কিডনি বা ফুসফুসে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে দ্রুত রক্তচাপ কমে গিয়ে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে।
​বাঁচতে হলে মানতে হবে ৩ স্তরের প্রতিকার
​সমাবেশে চিকিৎসা কর্মকর্তারা ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে তিন স্তরের বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন:
১. উৎস ধ্বংস (সবচেয়ে কার্যকর উপায়): ঘরের ফুলের টব, ভাঙা প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, কিংবা ছাদবাগানে যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে।
২. ব্যক্তিগত সুরক্ষা: দিনের বেলা (বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায়) শরীর ঢাকা পোশাক পরা, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং মশা তাড়ানোর ক্রিম বা লিকুইড ব্যবহার করা।
৩. দ্রুত চিকিৎসা: লক্ষণ দেখলেই অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা (NS1 Antigen) করা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করা, কারণ এতে রক্তক্ষরণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
​জেলা প্রশাসকের কড়া বার্তা
​সমাবেশে জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “শনিবারের এই দিনটি সবাই নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবহার করবেন। কারণ আপনার আঙিনা, আশপাশ, বাড়িঘর এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা সম্পূর্ণ আপনার নিজের দায়িত্ব।”
​তিনি উপস্থিত সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “এই নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে আমরা ব্যর্থ হলে, জীবনসংহারী ডেঙ্গু মশা আপনাকে এবং আপনার স্বজনদের শেষ করে দেবে। সুতরাং, মশা জন্মাতে পারে এমন পানি যাতে কোনোভাবেই জমে না থাকে সেদিকে কঠোর খেয়াল রাখতে হবে।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা