মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফের (VGF) চালের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক থেকে চাল আনলোডের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে তীব্র দুর্গন্ধ; দেখা যায় অস্বাভাবিক লালচে রঙ ও ছত্রাকের দাগ। স্থানীয়দের ভাষ্য—“এই চাল মানুষের তো দূরের কথা, পশুরও খাওয়ার অযোগ্য।”
রোববার (২ মার্চ) দুপুরে বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ৩০ কেজি ওজনের ২৮৮ বস্তা চাল (মোট ৮ হাজার ৬৪০ কেজি) আনলোড করা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, একাধিক বস্তা ছিল ছেঁড়া–ফাটা; চালের ভেতরে আর্দ্রতা ও পচা গন্ধ স্পষ্ট। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন বলেন, বস্তা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমিনে জানা গেছে, জাটকা নিধন বন্ধ কর্মসূচি উপলক্ষে বাউশিয়া ইউনিয়নের ৩১৮ জন ভিজিএফ কার্ডধারীর মধ্যে ১৬৮ জন জেলের জন্য জনপ্রতি ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ রয়েছে। সে হিসেবে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭২০ কেজি (১৬৮×৪০)। কিন্তু রোববার উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে আনা হয়েছে ৮ হাজার ৬৪০ কেজি চাল। বরাদ্দের তুলনায় প্রাপ্তির এই অমিল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—অতিরিক্ত চাল কেন ও কীভাবে এলো, আর তা কার জন্য?
বাউশিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ বিজয় চন্দ্রশীল অভিযোগ করেন, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহের সময়ই তিনি দুর্গন্ধযুক্ত ও পচা চাল নিতে আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, খাদ্যগুদামের ইনচার্জ মিজানুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি জোরপূর্বক ট্রাকে চাল তোলার নির্দেশ দেন।
ইউপি সচিব মেহেদী হাসান বলেন, “গ্রাম পুলিশ বিষয়টি আমাকে জানালে আমি সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে অবহিত করি। কিন্তু তিনি আমার আপত্তি অমান্য করে চাল পাঠিয়ে দেন।”
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সাজুয়া রহমান বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে। কেন নিম্নমানের, ছত্রাক পড়া ও গন্ধযুক্ত চাল বিতরণ করা হবে—তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা খাদ্য গোডাউন (এলএসডি) কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরে জানানো হবে।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান স্পষ্টভাবে বলেন, “কোনো অবস্থাতেই ছেঁড়া–ফাটা, গন্ধযুক্ত চাল বিতরণ করা যাবে না। প্রয়োজন হলে বস্তা বদল করে মানসম্মত চাল দেওয়া হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য এবাদুল্লাহ বলেন, “চাল লালচে, দুর্গন্ধযুক্ত এবং অনেকটাই পচা। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে যারা এমন চাল সরবরাহ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।”
দুর্যোগ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ। সেখানে নিম্নমানের, ছত্রাকযুক্ত খাদ্যশস্য সরবরাহের অভিযোগ খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি—দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এতে আর্দ্রতা ও সংরক্ষণ–ব্যবস্থার ত্রুটি থাকলে চাল দ্রুত নষ্ট হয়; কিন্তু গুদাম পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ–পূর্ব পরিদর্শন বাধ্যতামূলক।


