বৃহস্পতিবার,২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গজারিয়ায় ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা –ওসি হাসান আলী

  পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশের প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। যানজট নিরসন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে গজারিয়া থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মাহমুদ পারভেজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে গজারিয়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে ঘরমুখো মানুষের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সময় যানজটের পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এবারের ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ওসি হাসান আলী জানান, মহাসড়কের এই ১৬ কিলোমিটার এলাকায় গজারিয়া থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের যৌথভাবে মোতায়েন করা হবে, যাতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মহাসড়কের গজারিয়া অংশে অবস্থিত প্রতিটি হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে একজন এবং প্রতিটি ফিলিং স্টেশন থেকে দুইজন করে স্বেচ্ছাসেবী নেওয়া হবে। এছাড়া পুলিশের তত্ত্বাবধানে আরও কিছু স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে স্বেচ্ছাসেবীদের টি-শার্ট, এপ্রোন, লাইট ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে।
জানা গেছে, ঈদ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সময় বিবেচনায় ১৬ মার্চ রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রতিদিন একই সময়ে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং ঈদের দিন পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন বলেন, “ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গজারিয়া থানা পুলিশের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আমরা আশা করি।”
গজারিয়া থানা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মাহমুদ পারভেজ বলেন, “ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। ঈদকে সামনে রেখে এখানে মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে গজারিয়া থানা পুলিশের এই সমন্বিত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে যাত্রীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। আমরা আশা করি, সকলের সহযোগিতায় ঈদ যাত্রা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন হবে।”
স্থানীয়দের মতে, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে গৃহীত এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ঈদে মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন