গাইবান্ধায় জোড়া খুনের বিচার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে জামায়াতের বিশাল জনসমাবেশ

গত ২১ জুন গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় নিহত শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাহ উদ্দিনের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে এক বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রতিবাদী এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে অর্থসহ তেলাওয়াত করেন মাওলানা মোঃ শাফিউল ইসলাম এবং এরপর প্রতিবাদী ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে নবোদয় শিল্পী গোষ্ঠী।  জনসমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জোরালো বক্তব্য রাখেন।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন এবং বগুড়া জেলা আমীর মোঃ আব্দুল হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম এবং গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।  সমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ খুনিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। এদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মোঃ আব্দুর রহিম সরকার, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ ফয়সাল কবীর রানা, গাইবান্ধা সদর শহর আমীর ও জেলা শূরা কর্মপরিষদ সদস্য এ.কে.এম ফেরদৌস আলম এবং শ্রমিক কল্যাণের জেলা সভাপতি মোঃ নূরুন্নবী প্রধান।
প্রতিবাদী এই সমাবেশে গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলার আমীরবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা মোঃ ইব্রাহীম হোসেন মন্ডল, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আমীর মোঃ শহিদুল ইসলাম মঞ্জু, সাদুল্লাপুর উপজেলা আমীর মোঃ এরশাদুল হক ইমন, পলাশবাড়ী উপজেলা আমীর মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমীর জনার আবুল হোসেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলা আমীর মোঃ নূরুল ইসলাম এবং ফুলছড়ি উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। পাশাপাশি ছাত্রনেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ইউসুফ আল-কারযাভী, জেলা সেক্রেটারি মোঃ ফাহিম মন্ডল এবং সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ মাজেদুল ইসলাম।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।