মঙ্গলবার,৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিনাজপুর-৫ আসনে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনের ঘোষণা, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এজেডএম রেজওয়ানুল হকের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-৫ আসনে (পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী) বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচিত হলে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর উপজেলার ১ নম্বর বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সুন্দরপীর  বাজারে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এজেডএম রেজওয়ানুল হক বলেন, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলাকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের কবল থেকে মুক্ত করে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। নির্বাচিত হলে এসব অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে উত্তোলিত সম্পদের লুটপাট বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকার যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এবং তার নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের আইন ও আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
জুলাই আন্দোলন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আন্দোলন দেশের ছাত্র-জনতা ও জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফল। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এজেডএম রেজওয়ানুল হক বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একটি অশুভ শক্তির কারণে তিনি ধানের শীষ প্রতীক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবুও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর-৫ আসনটি পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪১টি।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৭৭,৫১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৩৮,৫৮৪ জন, নারী ভোটার ২,৩৮,৯৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।
এ আসনে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান, এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ, জাতীয় পার্টির কাজী মো. আব্দুল গফুর, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চু, অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী বেলাল এবং মো. রুস্তম আলী।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন