পার্বতীপুরের বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের উদ্যোগে ফুটবল বিতরণ ও আলোচনা সভা

যুবসমাজকে খেলাধুলামুখী করে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১নং বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের উদ্যোগে খেলোয়াড়দের মাঝে ফুটবল বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, তরুণ, অভিভাবক, সুধীজন এবং সংগঠনের নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ফুটবল বিতরণের পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব, যুবসমাজের নৈতিক বিকাশ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ, দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ মাহফিজুল ইসলাম মাসুম। প্রধান মেহমান ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান মিজান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম, পার্বতীপুর পৌর কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহিদুল ইসলাম মাসুদ, উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শওকত মাহমুদ এবং পৌর কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আজিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ শামসুজ্জোহা। সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। মাঠমুখী তরুণরাই একটি শক্তিশালী, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ, পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল খালেক।
অনুষ্ঠান শেষে খেলোয়াড়দের হাতে ফুটবল তুলে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী তরুণরা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে যুবসমাজ আরও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।