লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকায় সংঘটিত একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার একটি বড় অংশ ২৬ লক্ষ টাকা স্বর্ণ এবং নগদ ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতাকৃতদের মধ্যে লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত তিনজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছেন এবং ডাকাতির সাথে সরাসরি অংশ ছিল ২ জন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত (৯ মার্চ ২০২৬) রোজ সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন কুশখালী ইউনিয়নের একটি ভবনে ৭ থেকে ৮ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। অতঃপর ডাকাত দল গৃহকর্তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করিয়া প্রায় ২৮ ভরি ৬ আনা স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকাসহ ১টি স্মাট মোবাইল ফোন লুটে নিয়ে যায়। উক্ত গৃহকর্তার ভবন থেকে সর্বমোট প্রায় ৫৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতি ঘটনার পর লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ একটি দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে অভিযানে গিয়ে ডাকাতিতে জড়িত মূল অভিযুক্ত মো. খোরশেদ আলম (৪০) ও শাহাদাত হোসেন মোহনকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। খোরশেদের বাড়ি তল্লাশি করে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ২ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ এবং মোহনের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে ডাকাতির সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত দুই ডাকাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে চন্দ্রগঞ্জ বাজার থেকে ০৩ স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে… শুভ কর্মকার (৩০), অরূপ রায় (৩০) ও স্বরূপ রায় (২৬)। তাদের জুয়েলার্স দোকান থেকে ডাকাতির স্বর্ণ আরও প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
এপর্যন্ত পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং বর্তমানে অভিযান অব্যহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্য মতে, অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে সর্বমোট ১১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নগদ ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, (পিপিএম-সেবা, প্রশাসন ও অর্থ) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত মূল অভিযুক্তসহ ৫ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানা হেফাজত থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ডাকাতদের গ্রেফতারসহ অবশিষ্ট লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।


