এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে চরম হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে। বোর্ডের অধীনে ১৮টি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২৪ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এসব বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
ফল প্রকাশের পর এমন চিত্র সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, উপস্থিতি ও সার্বিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে রংপুরের ২টি, গাইবান্ধার ২টি, নীলফামারীর ১টি, কুড়িগ্রামের ৪টি, লালমনিরহাটের ১টি, দিনাজপুরের ১টি, ঠাকুরগাঁওয়ের ৫টি এবং পঞ্চগড়ের ২টি বিদ্যালয়।
রংপুরে দুই বিদ্যালয়
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন এবং ঘাসিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেয়। কিন্তু দুই বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
গাইবান্ধায়ও শূন্য
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন এবং পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহারপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করেনি।
নীলফামারীতে ১০ জনের কেউ পাস করেনি
ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফলাফলে পাসের সংখ্যা শূন্য।
কুড়িগ্রামে চার বিদ্যালয়ের একই চিত্র
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, সদর উপজেলার পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। চারটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
দিনাজপুরের গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়েও শূন্য
দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১৯ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন, তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫ জন এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পাঁচটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
পঞ্চগড়ের দুই বিদ্যালয়েও শূন্য
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বালারামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
কারণ অনুসন্ধানের দাবি
সব মিলিয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮টি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২৪ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল শূন্য। একটি বিদ্যালয় থেকে একজনও পাস না করার ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কেন এসব বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারল না? শিক্ষকদের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, বিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ফলাফল প্রকাশ করেই বিষয়টি শেষ না করে শূন্য পাস করা প্রতিটি বিদ্যালয়ের ফলাফল পর্যালোচনা করা জরুরি। পাশাপাশি দুর্বলতা চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও এমন ফলাফল অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


