রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’ নামে দুটি রেস্তোরাঁয় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রশিবির নেতার নেতৃত্বে চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় রেস্তোরাঁ দুটির আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া ককটেল বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার দাবিতে মহানগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিনোদপুর বাজারের একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারীর সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে শনিবার (২০ জুন) রাত ৯টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতা রমজানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’ হোটেলে চড়াও হয়। হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এসে মুহূর্তের মধ্যে রেস্তোরাঁ দুটিতে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে এবং ক্যাশ বাক্সসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
বিনোদপুর বাজার এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ঘটনার শুরুতেই সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ককটেলের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এলে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল মালিকদের দাবি, পরিকল্পিত এই হামলায় রেস্তোরাঁ দুটির আসবাবপত্র, গ্লাস, ফ্রিজ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর ও ক্যাশ লুটের ঘটনায় তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল দুটির মালিক মোর্শেদ শাকিল বলেন, “আমাদের রেস্তোরাঁয় সচরাচর স্বল্পশিক্ষিত ও বেকার ব্যক্তিবর্গ কাজ করেন। কোনো গ্রাহকের সাথে খারাপ আচরণ ‘বাংলা টিফিন’ কোনোভাবেই বরদাশত করে না। আমরা খাবারের মান ও সর্বোচ্চ সেবায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। কোনো কর্মচারী খারাপ আচরণ করলে এবং তা প্রমাণিত হলে আমরা তাৎক্ষণিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।”
তিনি আরও বলেন, “যতদূর জানি, এটি একটি ছোট্ট ঘটনা থেকে সূত্রপাত। তবে এই ছোট ঘটনার প্রেক্ষাপটে এমন ভয়াবহ তাণ্ডব আমরা কোনোভাবেই প্রত্যাশা করিনি। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য না করে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাধারণ সদস্য এবং এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
“ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনা সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং রাজশাহীর সব ব্যবসায়ীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
জানতে চাইলে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবির জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া ককটেল বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে বিনোদপুর বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
তিনি আরও জানান, এই হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


