চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে জাতীয় ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী গুণীজন এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ১১১নং মতলব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডাকবাক্স সংস্থার আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (১১আগস্ট ২০২৬) সকালে মতলব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. ইশমাম।
অনুষ্ঠানে মতলব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মিরান হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এনামুল হক বাদল, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সাগর, সাবেক সভাপতি এমদাদ হোসেন খান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হাই এবং উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. সরওয়ার জাহান।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মতলব প্রেসক্লাবের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারওয়ার সেলিম, জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক উম্মে কুলসুম শেফা, নুরুন নাহার আক্তার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মজিবুর রহমান সরকার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাছির মিয়াজী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিরাজ মাহমুদ জিশান, ডাক ফাউন্ডেশনের সদস্য সজীবসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মতলব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইটি শিরিন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুল জান্নাত।
বক্তারা বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য যারা শ্রেষ্ঠ গুণীজন হিসেবে সংবর্ধিত হয়েছেন, তারা সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের কর্ম, সৃষ্টি ও সাধনা নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে। একটি সমাজ তখনই সমৃদ্ধ হয়, যখন সে সমাজ তার গুণী ও কৃতী মানুষদের যথাযথ সম্মান দিতে শেখে। এ ধরনের সম্মাননা তরুণ প্রজন্মকে ভালো কাজ ও সমাজকল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে।
বক্তারা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বৃত্তি অর্জন তাদের মেধা, পরিশ্রম ও একাগ্রতার স্বীকৃতি। তবে এটি তাদের জীবনের পথচলার শেষ নয়, বরং নতুন যাত্রার শুরু। জিপিএ কিংবা বৃত্তির ফলাফলের চেয়েও জীবনের বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ক্যারিয়ারমুখী হলে চলবে না; তাদের একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ভবিষ্যতে তারা যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগায়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী গুণীজন এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও অন্যান্য উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


