রবিবার,২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নবীনগরে মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক কারাগারে দিল কুচক্রী মহর— এলাকায় উত্তেজনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর বাজারে অবস্থিত মার্কাজুত তাজভীত ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে এবং মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে আইনি জটিলতায় ফেলেছে।

মামলার কথিত বাদী হিসেবে পরিচিত এক নারী জানান, গত ১৫ মে বিকেলে তিনি তার ১১ বছর বয়সী সন্তানকে সাপ্তাহিক নিয়ম অনুযায়ী টিফিন খাওয়াতে মাদ্রাসায় যান। তিনি দাবি করেন, যে কক্ষে তিনি সাধারণত বসতেন সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে মাদ্রাসার গার্ড আরিফ তাকে পাশের কক্ষে যেতে বলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানকে নিয়ে পাশের কক্ষে প্রবেশ করার পর গার্ড আরিফ বাইরে থেকে কক্ষটি বন্ধ করে দিয়ে চিৎকার শুরু করেন এবং লোকজন জড়ো করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা তফাজ্জল হোসেন ওয়াশরুমে ছিলেন এবং এ বিষয়ে তার কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না।

ওই নারী বলেন, “মাওলানা তফাজ্জল হোসেন একজন ভালো মানুষ। তিনি কখনও আমাকে কোনো ধরনের কুপ্রস্তাব দেননি কিংবা আমার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেননি। একটি পক্ষ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়েছে এবং আমার সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ন করেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরদিন সকালে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিতে বলা হয়। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি জানতেন না কাগজে কী লেখা ছিল এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও করেননি।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা তফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমার মাদ্রাসায় সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। একটি মহল আমার ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে মব সৃষ্টি করেছে। হামলার সময় মাদ্রাসার বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাট হয়েছে। আমাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের উদ্দেশ্য মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ন করা।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা হাফেজ কারী জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত গার্ড আরিফের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নাকি স্বীকার করেছেন যে, হুমকির মুখে পড়ে তিনি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোর্শেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বাদী মামলা করেছেন বলেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে বাদীর কোনো আপত্তি বা ভিন্ন বক্তব্য থাকলে তিনি আদালতে তা উপস্থাপন করতে পারবেন।”

ঘটনার পর মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

(বিঃদ্রঃ: অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।)

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা