দিনাজপুর–৫ (পার্বতীপুর–ফুলবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এ.জেড.এম রেজওয়ানুল হক একটি ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে তিনি পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ঘোষিত ইশতেহারে পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যে বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—
১. ভূমি ও মালিকানা সংকট নিরসন
পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের মালিকানা জটিলতা আইনানুগ ও স্থায়ীভাবে সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২. রেলওয়ে আধুনিকায়ন ও নগর উন্নয়ন
পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের আধুনিকায়ন, রেলওয়ে এলাকার অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত রেলওয়ে নগর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৩. দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন
ভূমি অফিস, সেটেলমেন্ট অফিসসহ সকল সরকারি দপ্তরকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করে জনগণের হয়রানি বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা সহজ ও স্বচ্ছভাবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পার্বতীপুর উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত সকল পেশাদার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে।
৪. শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
৫. স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন
পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীতে আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
৬. সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন
গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করে পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীকে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
৭. কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন
স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প-কারখানা স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
৮. মাদক, চোরাচালান ও সামাজিক অপরাধ রোধ
মাদক, চোরাচালানসহ সকল সামাজিক অপরাধ নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও শান্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
৯. দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন
দরিদ্র, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন, ভাতা প্রদান এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।
১০. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্য
ধর্ম, বর্ণ ও মত নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়।
১১. আধুনিক বিদ্যুৎ ও বাণিজ্য ব্যবস্থা
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং একটি আধুনিক ও বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ.জেড.এম রেজওয়ানুল হক বলেন, “জনগণের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন পেলে দিনাজপুর–৫ আসনের দীর্ঘদিনের সকল সমস্যা জাতীয় সংসদে দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করবো এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবো।”


