দিনাজপুরে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন কার্যক্রমের উদ্বোধন

দিনাজপুরে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন কার্যক্রমের উদ্বোধন
“জনবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস, সুস্থ মন, উত্তম সেবা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ও সবুজ পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ স্কাউটস এবং বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ভিশন দিনাজপুর এরিয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের আয়োজনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস.এম. হাবিবুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, দিনাজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও বাণিজ্যিক এলাকা হলেও বর্তমানে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবংSet featured image পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সুস্থ জীবন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি। আগামী এক বছরের মধ্যে জেলার সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আসিফ ফেরদৌস, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বাঢলেট এবং সিনিয়র ডিরেক্টর চন্দন জাকারিয়াস।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্কাউটস দিনাজপুরের সম্পাদক মোঃ আকরাম হোসেন। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টার ডেপুটি ডিরেক্টর (ফিল্ড অপারেশন) রাজু উইলিয়াম রোজারিও।
প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দিনাজপুর এপির সিনিয়র ম্যানেজার সেবাষ্টিয়ান পিউরিফিকেশন। এছাড়া অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ডিরেক্টর-অপারেশন ও টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম লিমা হান্না দারিং, জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক।
আলোচনা সভা শেষে নামফলক উন্মোচন ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন। পরে তিনি শিশু পার্কে পরিবেশবান্ধব পার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।