বৃহস্পতিবার,২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিন ফসলি জমিতে ড্রেজারের আগ্রাসন: চরবাউশিয়ায় শিল্পের নামে জমি দখলের অভিযোগ

গাজী মাহমুদ পারভেজ—সবুজে মোড়া তিন ফসলি জমি। এক সময় যেখানে ধান, পাট ও শাকসবজির চাষে ব্যস্ত থাকতেন কৃষকরা, আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে ড্রেজার। বালুর স্তূপে ঢেকে যাচ্ছে উর্বর মাটি। শিল্পকারখানা স্থাপনের নামে কৃষিজমি ও সরকারি খাস সম্পত্তি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, ‘সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমতি ও জমি ক্রয় সম্পন্ন না করেই জোরপূর্বক বালু ভরাট শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে ভরাট কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ ছিল না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমির চারপাশ উঁচু করে বালু ফেলে ঘিরে ফেলা হয়েছে। কোথাও কংক্রিটের পিলার বসিয়ে সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। এতে প্রাকৃতিক পানি চলাচল বন্ধ হয়ে আশপাশের জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
কৃষক মজিবুর রহমানের কণ্ঠে ক্ষোভ, “এই জমিই ছিল আমাদের একমাত্র সম্বল। চারদিকে বালু ফেলে পানি আটকে দিয়েছে। এখন জমি বিক্রি ছাড়া উপায় নেই—এটাই ওদের কৌশল।”
ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম বলেন, “আমরা জমি বিক্রি করিনি। পাশের জমিতে বালু ফেলায় আমাদের অর্ধেক জমি নষ্ট। প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি।”
প্রশ্ন উঠছে—শিল্পায়নের নামে কৃষিজমি ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া কি পরিকল্পিত দখল? নাকি প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি?
এই সিরিজ প্রতিবেদনে পর্যায়ক্রমে উঠে আসবে—জমি দখলের কৌশল, প্রশাসনিক ভূমিকা, আইনি জটিলতা এবং কৃষকের ভবিষ্যৎ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন