সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি মৎস্যঘেরের বাসায় অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক দখলচেষ্টা, হুমকি-ধামকি এবং মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগকারী পক্ষ জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীয় জমি ভোগ-দখলে রেখে মৎস্য চাষ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ঘেরের বাসায় অগ্নিসংযোগ এবং ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে অভিযুক্তরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে ঘেরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা বরাবর ১৬/১১/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিষয় থেকে এই বিরোধের সূত্রপাত।পি-৮০৯/২৫ (১৪৫ ধারা) নং মামলায় ১ম পক্ষ হিসেবে উৎপল বৈদ্য (পিতা: মৃত সন্তোষ বৈদ্য, সাং-ঘোজাডাঙ্গা, কালিগঞ্জ) এবং ২য় পক্ষ হিসেবে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ইমান আলী গাজীর পুত্র আব্দুর রহিম ও আকবর আলী, ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের ধ্রুব বৈদ্যের পুত্র দুর্লভ বৈদ্য, শীতল মণ্ডলের পুত্র শুকদেব মণ্ডল, সমীরণ বৈদ্য, চণ্ডী বৈদ্যসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।কার্যালয়ের ১৮/০৫/২০২৫ তারিখের ৬৭৪ নং স্মারকের আদেশ মোতাবেক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন হয়। তদন্তকালে উভয় পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫ নং কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার বিভিন্ন বি.আর.এস খতিয়ানভুক্ত মোট ০.৮৮০০ একর জমি পৃথক পৃথক ব্যক্তির নামে রেকর্ড রয়েছে।বাদীপক্ষের দাবি, এস.এ ২৬৮ ও ২৬৯ নং খতিয়ানের ১৬০ ও ১৬৪ দাগভুক্ত ১.২১০০ একর জমি দেং-৪৬/৬৮ নং মামলার রায় ও ডিক্রির মাধ্যমে তাদের পিতা সন্তোষ বৈদ্য প্রাপ্ত হন। পিতার মৃত্যুর পর তারা ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিকানা ভোগ করছেন এবং ১৯৯২ সাল থেকে সেখানে মৎস্য চাষ পরিচালনা করে আসছেন। তবে বি.আর.এস জরিপে ভ্রান্তভাবে তাদের নামে রেকর্ড না হয়ে প্রতিপক্ষসহ অন্যদের নামে রেকর্ড হওয়ায় তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য দেং-২৮/২০২৫ (মামলা নং ২৮/২৫) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে সাতক্ষীরা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অপরদিকে ২য় পক্ষ দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি তারা ক্রয়সূত্রে ও নিজ নিজ রেকর্ডীয় মালিকানা অনুযায়ী বৈধভাবে প্রাপ্ত হয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, বর্তমানে ১ম পক্ষ প্রায় ১২ বিঘা জমি বেড়িবাঁধ দিয়ে ঘের নির্মাণ করে মৎস্য চাষের মাধ্যমে ভোগ-দখলে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার বৈদ্যের পুত্র মনোরঞ্জন বৈদ্য, অবনী বৈদ্য ও ধনঞ্জয় বৈদ্য। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।,আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের রায়ের প্রতিই আস্থা রাখি। মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ শক্তিপ্রয়োগে জমি দখলের চেষ্টা করে, ঘেরের বাসা পুড়িয়ে দেয় এবং আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নষ্ট করে, তবে তা শুধু অন্যায় নয়—আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ন্যায়বিচার কামনা করছি।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর (০১৭৩১৪৭৭২৩৬)-এ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


