চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের কৃষক পরিবারের ছেলে মোবারক হোসেন, যিনি এখন ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত, ভারতে পালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা পড়েছেন। যশোর সীমান্ত এলাকা দিয়ে পালানোর সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমনের বাবা মোহাম্মদ মুসা একজন কৃষক। ছোটবেলায় ক্রিকেটের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল এবং একসময় বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তবে কৈশোরেই কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর চট্টগ্রাম শহরে এসে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দিয়ে অপরাধ জগতে সক্রিয় হন।
অভিযোগ আছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার দ্বৈত হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া বিদেশি অস্ত্র হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘বড় সাজ্জাদ’ গ্রুপের সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে তার উত্থান ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ওই গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ডেভিড ইমন বাহিনীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়।
জানা গেছে, ২০২২ সালে ইমন ওমানে যান এবং প্রায় এক বছর পর দেশে ফিরে আসেন। পরে আত্মগোপনে থেকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থানকালে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
বর্তমানে এই শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং তার দিন সহযোগী যশোরে আটক হয়েছেন পুলিশের কাছে।


