বৃহস্পতিবার,২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গজারিয়ায় পরিত্যক্ত ঘরে ১৩ ঘোড়া জবাই: জীবিত উদ্ধার ১, মাংস গরুর নামে বিক্রির অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে ১৩টি ঘোড়া জবাই করার ভয়াবহ ঘটনা ফাঁস হয়েছে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে জড়িতরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে জবাইকৃত ১৩টি ঘোড়ার দেহ এবং জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এসব ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার হওয়া ঘোড়াগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ মাংস সংগ্রহ করে তা গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেল ও বাজারে সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে ও আশপাশে জবাইকৃত ঘোড়ার দেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। চারদিকে রক্তের দাগ এবং জবাইয়ের আলামত স্পষ্টভাবে দেখা যায়। জবাইকৃত ঘোড়াগুলোর মধ্যে একটি গর্ভবতী ছিল। পাশেই নাড়ির সঙ্গে বাচ্চাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
ঘরের চারপাশে খোঁড়া বড় বড় গর্তে ঘোড়ার হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি পুঁতে রাখার আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা পুরো ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চলছিল। বিষয়টি নজরে আসায় গ্রামবাসী গোপনে নজরদারি শুরু করেন। বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে এক যুবকের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ১৩টি জবাইকৃত ঘোড়া দেখতে পান।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় আনারপুরা গ্রামের তিতাস ও রাজিব নামে দুই ব্যক্তিকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন জানান, প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে ওই পরিত্যক্ত ঘরের সামনে একটি গাড়ি আসত। পরদিন সকালে সেখানে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বস্তাবন্দি করে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করছে। প্রমাণ নষ্ট করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলত।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যায়নি। তবে পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন