কাহারোলে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ আন্তঃজেলা মাদক চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ আন্তঃজেলা মাদক চোরাচালান চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানও জব্দ করা হয়। জেলা পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবসার আড়ালে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক এনে দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এবং কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় থানার একটি চৌকস টিম বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের ১১ মাইল ইটুয়া গ্রামের কান্তা ইক্ষু ফার্ম সংলগ্ন দশমাইল-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে নিয়মিত রাত্রীকালীন টহল ও তল্লাশি চলছিল। এ সময় সন্দেহজনক একটি পিকআপ ভ্যান (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ন-৪৬-৬৬১) থামিয়ে তল্লাশি করা হলে গাড়ির ভেতরে থাকা তিনটি বস্তা থেকে মোট ৮৮ কেজি অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকেই মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয় এবং গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ শফিকুল ইসলাম (৫২), পিতা: মৃত আব্দুল রশিদ, গ্রাম- রানীপুর, থানা- চিরিরবন্দর, জেলা- দিনাজপুর এবং শ্রী রন্ধন চন্দ্র রায় (২৮), পিতা: শ্রী মনমথ চন্দ্র রায়, গ্রাম- গড়নুরপুর, থানা- কাহারোল, জেলা- দিনাজপুর।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবসার আড়ালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক সংগ্রহ করে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধার হওয়া গাঁজার চালানটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কাহারোল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থের যোগানদাতা এবং নেপথ্যের হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি, বিশেষ অভিযান এবং নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।