নওগাঁর পোরশা উপজেলায় নিজ শয়নকক্ষে বিষধর সাপের কামড়ে রাকিবুল ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সচেতনতার অভাব এবং ওঝার কাছে নিয়ে সময় অপচয় করার কারণেই কিশোরটির প্রাণহানি ঘটেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের পশ্চিম হরিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিবুল ইসলাম ওই গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে।
ঘটনা ওঝা থেকে হাসপাতাল:
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ শয়নকক্ষে কাজ করার সময় রাকিবুলকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সাপে কাটার বিষয়টি বুঝতে পেরেও পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে, স্থানীয় এক ওঝার (ঝাড়ফুঁককারী) কাছে নিয়ে যান।
ওঝার কাছে দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসার নামে সময় নষ্ট করার পর রাকিবুলের অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য ও পরামর্শ:
এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোসা. নাসিমা সুলতানা জানান,
”রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে সাপের বিষ তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। হাসপাতালে আনার পর আমাদের চিকিৎসকেরা সাধ্যমতো যথাযথ চিকিৎসা (অ্যান্টিভেনম) দিলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”
তিনি তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, সাপে কাটার পর ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করা যাবে না। বিষধর সাপে কাটলে একমাত্র আধুনিক চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে। তাই যেকোনো সাপে কাটার রোগীকে সরাসরি নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য তিনি জোর পরামর্শ দেন।
এলাকায় শোকের ছায়া:
এই ঘটনার পর পশ্চিম হরিপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সাথে সচেতন মহল প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাপে কাটার আধুনিক চিকিৎসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।


