ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিনের অনিয়ম ঢাকার অপচেষ্টা শুরু

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া মদিনাতুল  উলুম আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি আইন অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক, প্রাক-নির্বাচনী (প্রি-টেস্ট) ও নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে কতিপয় শিক্ষার্থীকে সরাসরি দাখিল ও আলিম পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াসহ নানা  অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন শিক্ষক সমাজের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।
অনুসন্ধান,এলাকাবাসী ও দায়িত্বশীল শিক্ষক সূত্র থেকে জানা যায়, পুরো প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনিক পর্যায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। অপকর্ম ঢাকতে কতিপয় সংবাদকর্মীকে অর্থের বিনিময়ে সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার পূর্বে প্রচারিত সংবাদকে মিথ্যা প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরীক্ষা না দেওয়া একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে ‘ব্যাকডেট’ (পূর্বের তারিখ) উল্লেখ করে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহের তথ্যও পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের একটি অংশ এই কর্মকাণ্ডকে শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জালিয়াতি ও জ্যৈষ্ঠতা লংঘনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষামন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ ও জরুরি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এসব বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া  যায়নি। ইতিপূর্বে সাক্ষাতকালে প্রশ্ন করা হলেও তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। সঠিক উত্তর দিতে না পারার কারণ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ও শিক্ষকদের একটি দায়িত্বশীল সূত্রমতে ঐ অধ্যক্ষ নিজে যোগ্য না বিধায় অন্য একজন শিক্ষকের উপর ভর করে সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন এবং তার পরামর্শেই চলেন। এদিকে প্রায় দুমাস আগে অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিন,ঈশ্বরদীর ইউএনও  এবং বদলীকৃত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের  সাক্ষাতকারের বক্তব্যসহ আন্তর্জাতিক,দৈনিক জনতার খবর,জি-24 নিউজ, দৈনিক সকালের সময়,ডেইলী কান্ট্রিটুডে সহ একাধিক জাতীয় ,আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকাসহ একাধিক টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রচার হওয়ার পরও কোন তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।তবে সদ্য যোগদানকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান,বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈশ্বরদীর ইউএনও হাসান মোম্মদ সোয়াবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও  তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বছরের অর্ধেক সময়ই অচল ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, কর্মহীন ৮ হাজার শ্রমিক-ব্যবসায়ী

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর যেন এখন অস্তিত্ব সংকটে।