সোমবার,২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈশ্বরদীতে ট্রাক্টর দিয়ে ১ বিঘা জমির ফসল নষ্টের অভিযোগ, ৩ লাখ টাকার ক্ষতি

শ্বরদীতে পারিবারিক বিরোধ ও জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে এক কৃষকের ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করা ১৬০টি পেয়ারা গাছ, শসা, ঝিঙেসহ বিভিন্ন ফসল ট্রাক্টর দিয়ে গুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই দুই চাচার বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।
উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের তিলকপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলামিন হোসেন ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর থেকেই অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযুক্তরা হলেন তিলকপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুল হক গেদন মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লা ও মিঠু মোল্লা। তারা সম্পর্কে ভুক্তভোগী কৃষক আলামিন হোসেনের আপন চাচা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পারিবারিক কলহ ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে পৈতৃক ভিটার বাড়িটি ৬ লাখ টাকায় কিনে নেন লিটন মোল্লা। বাড়ি ক্রয়ের পর বড় ভাই ওহিদুল মোল্লা ও তার পরিবারের কাছে ৯০ হাজার টাকা পাওনা থাকে। পরবর্তীতে ওই পাওনার বিপরীতে লিটন মোল্লা এক বিঘা জমি তিন বছরের জন্য ৬৫ হাজার টাকায় খাজনা দেন ভাতিজা আলামিন হোসেনকে এবং বাকি ২৫ হাজার টাকা পরে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগে বলা হয়, খাজনা দেওয়ার এক বছর পর হঠাৎ করে জমিটি খাজনা দেওয়া হয়নি দাবি করে লিটন মোল্লা ও মিঠু মোল্লা ট্রাক্টর দিয়ে জমির পেয়ারা গাছ ও অন্যান্য ফসল নষ্ট করে দেন। পাশাপাশি বাকি ২৫ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলামিন হোসেন বলেন, “দাদার বাড়ি ক্রয় বাবদ আমাদের ৯০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকার পরিবর্তে জমিটি খাজনা দেওয়া হয়। আমি সেখানে ১৬০টি পেয়ারা গাছসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছি। হঠাৎ করে ট্রাক্টর দিয়ে সবকিছু নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পারিবারিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু একটি ফলবাগান ও ফসলি জমি এভাবে নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লিটন মোল্লা বলেন, “জমিটি কাউকে খাজনা দেওয়া হয়নি। আমার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন, কিন্তু কোনো টাকা দেননি। আমি নিজে জমিতে আবাদ করার জন্য একাধিকবার গাছপালা সরিয়ে নিতে বলেছিলাম। তারা তা না করায় আমি আমার জমি চাষ করেছি।”
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন