কয়েকদিনের স্বস্তির পর আবারও বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল বরিশাল অঞ্চল। গত তিন দিন ধরে চাহিদার তুলনায় ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে নগর থেকে গ্রাম—সবখানেই চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং। ফলে তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় সারাদিনই কোনো না কোনো সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা, আবার কোথাও এরও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। বাসাবাড়িতে গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের কষ্ট বেড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ, অনলাইন সেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও।
শুধু মহানগর নয়, ঝালকাঠী জেলা সদরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় সংকট আরও তীব্র। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মেগাওয়াট হলেও, অনেক সময় ঘাটতি ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে, সামনে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, বরিশাল অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকেও বর্তমানে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তবুও বরিশাল অঞ্চলের মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে দীর্ঘ লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণেই বরিশাল অঞ্চলে চাহিদার তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এই সংকট কবে কাটবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দিনের পর দিন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে অবদান রাখা অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বরিশালবাসী কেন এমন দুর্ভোগের শিকার হবে—এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


