রবিবার,২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় কুলিয়ারচরের দক্ষিণ সালুয়া শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সালুয়া গ্রামে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে একাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণ সালুয়া।
দক্ষিণ সালুয়া গ্রামটি ইউনিয়নের মধ্যে সকল দিক থেকে অবহেলিত। উক্ত গ্রামে জনগনের চলাচলের জন্য নেই কোন পাকা রাস্তা। কাঁচা রাস্তা যতটুকু আছে তাও চলাচলের অনুপযোগী।  পাশাপাশি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অবহেলিত দক্ষিণ সালুয়ার সহস্রাধিক শিশু।
বাংলাদেশকে বৃটিশ শাসন করেছে দুইশত বছর,পাকিস্তান ২৪ বছর এবং স্বাধীন বাংলাদেশ শাসন করেছে ৫৪ বছর। শতশত বছর পার হলেও দক্ষিণ সালুয়া বাসির ভাগ্যে জুটেনি কোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটাকে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ও বলা চলে এ জনপদের মানুষের জন্য। দেশ স্বাধীন হয়েছিল যে মৌলিক অধিকার পাওয়ার আশায় দক্ষিণ সালুয়ার জনগন তা পায় নি। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম। আর এ অন্যতম অধিকার থেকে শতশত বছর বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণ সালুয়ার জনগন।
এ গ্রামের কোমলমতি শিশুরা বাড়ি থেকে ২/৩ কিলোমিটা দূরে পায়ে হেঁটে অন্য গ্রামের বিদ্যালয়ে যেতে হয়।এতে করে শিক্ষার প্রতি শিশুরা আগ্রহ হারিয়ে  ফেলে। ফলে তাদের লেখাপড়া থেমে যায় শুরু থেকেই।
২০০২ সালে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা “পপি” এর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। “পপি”র শিক্ষা প্রকল্প শেষ হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টি নামে মাত্রই রয়ে গেছে দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করার জন্য প্রশাসনের নিকট থেকে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি।
উক্ত বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা মোঃ আব্দুর রাশিদ। তিনি গ্রামের শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য নিজের ক্রয়কৃত জমি স্বেচ্ছায় দান করে দিয়েছেন।
দক্ষিণ সালুয়ার কৃতি সন্তান মানবতার ফেরীওয়ালা নামে পরিচিত সালুয়া ইউনিয়ন ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম জানান বিদ্যালয়টি অবহলিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান যে কয়জন শিক্ষক এখানে স্বেচ্ছা শ্রম দিচ্ছেন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারী কোন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগনও হতাশা গ্রস্ত হয়ে তাদের সন্তান অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে দক্ষিণ সালুয়া গ্রামটি শিক্ষার দিক
 থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়টি সরকারী না হলেও জরাজীর্ণ একটি ঘরে স্থানীয় এবং জাতীয় নির্বাচনের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
দক্ষিণ সালুয়া বাসির দাবী দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে অত্র গ্রামের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। তারা জানান বিদ্যালয়টি সরকারী করা হলে আমাদের সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।  তাই বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
“সবার জন্য শিক্ষা” এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে দক্ষিণ সালুয়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা সময়ের দাবী।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা