সোমবার,২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে মুরাদনগরের গোমতী বেইলি সেতু: আতঙ্কে লাখো মানুষ, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে গোমতী নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র বেইলি সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন শত শত হালকা ও ভারী যানবাহন এবং হাজার হাজার মানুষ এই জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে এখানে একটি বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 মাঠপর্যায়ের বর্তমান চিত্র:

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৯৮৮ সালে নির্মিত এই পুরোনো বেইলি সেতুটির স্টিলের পাটাতনগুলো মারাত্মকভাবে নষ্ট ও ভেঙে পড়েছে। বহু জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেতরের লোহার রড বের হয়ে এসেছে। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে, যার ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিএনজি, অটোরিকশা, বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। যখনই কোনো ভারী যানবাহন এই সেতুতে ওঠে, পুরো সেতুটি বিকট শব্দে কাঁপতে শুরু করে।

 তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি:

সেতুটির অবস্থা এতই নাজুক যে, একদিকের গাড়ি উঠলে অন্যদিকের গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। একটু অসাবধান হলেই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে গিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে যাতায়াতকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রতিদিন এই সেতু পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

 স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দাবি:

মুরাদনগর, দেবীদ্বার ও বাঞ্ছারামপুরের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকায় কম সময়ে যাতায়াতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট এটি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে সেতুটির কোনো স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না। জোড়াতালির মেরামত দিয়ে আর কতদিন চলবে? যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে একটি স্থায়ী আরসিসি (RCC) গার্ডার সেতু নির্মাণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

 সময়ের দাবি:

মুরাদনগরের লাখো মানুষের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কি এখনই ঘুম ভাঙবে না? নাকি বড় কোনো দুর্ঘটনার পরই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মনে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা