দেলদুয়ারে সাংবাদিক পরিচয়ধারী মামুন ও এস. আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে সাংবাদিক পরিচয়ধারী মামুন ও এস আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেলদুয়ার উপজেলা প্রেসক্লাবে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফজলুর রহমান তুহিন, তোফাজ্জল হোসেন, বাবলু চৌধুরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
ফজলুর রহমান তুহিন বলেন, দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মোজাম্মেল হক মামুন ও রূপসী গ্রামের শাহ আলম (এস. আলম) নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উপজেলা ব্যপি চাঁদাবাজী করে বেড়ায়। প্রথমে তারা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রকল্পের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরে প্রকল্প সভাপতিকে ফোন দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে মর্মে চাঁদা দাবি করে। সম্প্রতি নাটিয়াপাড়া একটি প্রকল্পের ভিডিও চিত্র ধারণ করে সেখান থেকে নগদ ১ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। পরে বিকাশ নম্বর (০১৭১৪২৩৯২৭৭) দিয়ে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। টাকা না পাঠালে প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে এরকম ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হবে।
ফাজিলহাটী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মোজাম্মেল হক মামুন ও এস.আলম একজন আওয়ামীলীগ ফ্যাসিস্ট ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ফ্যাসিস্ট যুগের ১৬টি বছরই তিনি দাপুটের সঙ্গে আওয়ামীলীগে সংযুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগের পতন হলে সে আবার বিএনপির কতিপয় নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেন। দেলদুয়ার উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতার মধ্যস্থতায় সে উপজেলা শ্রমিক দলের সহকারী সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেয়। এর পর সে তার অপকর্মে আরও বেপরুয়া হয়ে উঠেন। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন। এতে স্থানীয় নেতা কর্মীরা বিব্রত অবস্থায় পরেন।
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব বাবলু চৌধুরী বলেন, স্থানীয় কবরস্থানের একটি রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে সেই রাস্তার ভিডিও চিত্র ধারণ করে প্রচার করার ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার নিকট ১২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে মামুন ও এস আলম। টাকা না দেয়ায় ৬ দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগরা বক্তব্যসম্বলিত ভিডিও প্রচার করে। এ দু’জনের বিরুদ্ধে সাড়া উপজেলা থেকে ব্যপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ আমরা পাচ্ছি।
জানা গেছে, মোজাম্মেল হক মামুন ও এস. আলম মাধ্যমিকের গন্ডিও পেরোয় নি। দেন সাংবাদিক পরিচয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়েজ অব টাঙ্গাইল বাংলা, ক্রাইম টুয়েন্টি ফোর, মামুন প্রেস, দি বাংলা ইন্ডিপেন্ডেন্ট টাঙ্গাইল, দুর্নীতি তালাশ টাঙ্গাইল ইত্যাদি ব্যক্তিগত পেইজে নিজ বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও চিত্র প্রচার দিয়ে নিরীহ জনসাধারণকে জিম্মি করে চাঁদাবাজী করে বেড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির প্রবীন নেতা নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ্ মিয়া, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহেদুল্লাহ্ মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. সোলায়মান মিয়া, উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক সোহানুর রহমান সোহেল প্রমূখ। বক্তারা মোজাম্মেল হক মামুন ও এস আলমের বিরুদ্ধে আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। সেই সাথে মোজাম্মেল হক মামুনকে দলের বিভিন্ন নেতার মানহানী ও ভাবমুর্তী ক্ষুণ্য করায় উপজেলা শ্রমিক দলের পদ-পদবী থেকে বহিস্কারেরও দাবি করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন