সোমবার,২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

থানার ওসি আবুল হাশেমের নেতৃত্বে নদী পেরিয়ে অভিযানে কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বহুল আলোচিত ও কুখ্যাত মাদক কারবারি আব্দুল সাত্তার (৫২)-কে গ্রেপ্তার করেছে কলমাকান্দা থানা পুলিশ।
১৫ মে ২০২৬ তারিখে কলমাকান্দা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল হাশেম (বিপি নং- ৮৩১১১৩৫৭২৪) এর নেতৃত্বে এসআই মোঃ নূর আলম (বিপি নং- ৮৮০৭১১৩৬৯৭) ও এএসআই মোঃ সুমন মিয়া (বিপি নং- ৮৬০৬১১৩৭৩৪) সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাজিরপুর ইউনিয়নের উলুকান্দা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল সাত্তার (৫২), পিতা- মৃত আব্দুল বারেক, গ্রাম- উলুকান্দা, ইউনিয়ন- নাজিরপুর, উপজেলা- কলমাকান্দা, জেলা- নেত্রকোনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং এলাকায় তিনি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে আব্দুল সাত্তারকে খালি গায়ে হাতে বল্লম নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর এলাকাবাসী, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ তার দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আব্দুল সাত্তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে ওসির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির সামনের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় এসআই নূর আলম ও এএসআই সুমন মিয়া তার পিছু ধাওয়া করেন। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট সাঁতার কেটে এবং কাদামাটি অতিক্রম করে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং সাহসিকতার জন্য কলমাকান্দা থানা পুলিশকে প্রশংসা করেছেন।
সিডিএমএস সূত্রে জানা যায়, আব্দুল সাত্তারের বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মামলা নং-১৬, তারিখ ২৮/১১/২০১৩, ধারা ৪৪৭/৩323/৩25/৩79/৩54/৪27 এবং মামলা নং-১৮, তারিখ ২৯/০৪/২০২৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ২৪(খ)/৪১ ধারার মামলা উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় তদন্তে আরও জানা যায়, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে ভারত থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করতেন তিনি, যার ফলে স্থানীয় যুবসমাজ মাদকের করালগ্রাসে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব এস এম মিকাইল ইসলাম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট)-এর মাধ্যমে আব্দুল সাত্তারকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা