চরভদ্রাসনে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত; মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নির্মূল, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চরভদ্রাসন থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফর আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হোসাইন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ গোলাম মোর্তজা, ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান, ইয়াকুব আলী ও জাহাঙ্গীর কবির, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী লাভলু, মো. উজ্জ্বল, মোস্তফা মাহমুদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কমিটির সদস্যরা।
সভায় নবাগত ওসি মো. সফর আলী বলেন, “সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমার উপজেলায় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান হবে না। তাদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি সুপারিশ নিয়ে আসবেন না। যদি কেউ এ ধরনের সুপারিশ করেন, তাহলে আগামী আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমি তাদের নাম প্রকাশ করব। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। সমন্বিত উদ্যোগই একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।