সোমবার,২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কর্মীর ঘামে রাজনীতির ভিত্তি, ক্ষমতার সুফল ভোগ করে কারা

রাজনীতির মাঠে একজন সাধারণ কর্মীই দলের প্রাণশক্তি। পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে ব্যানার টানানো, রাজপথে মিছিল-মিটিং, হরতাল পালন, লিফলেট বিতরণ, নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটকেন্দ্র পাহারা—সব ক্ষেত্রেই কর্মীরাই দলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। অথচ বাস্তবতার নির্মম চিত্র হলো, রাজনৈতিক সাফল্য ও ক্ষমতার সুফল ভোগের ক্ষেত্রে অনেক সময় সেই কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত থেকে যায়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে একটি অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে—দল ক্ষমতায় থাকুক বা বিরোধী দলে থাকুক, সাধারণ কর্মীরা দলের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিলেও তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক নেতার কাছে গুরুত্ব পায় না। কর্মীরা দিনের পর দিন কষ্ট করে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখে, কিন্তু যখন কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের প্রশ্ন আসে, তখন অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পান না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মী শুধুমাত্র একজন নেতার অনুসারী নন; তিনি দলের অস্তিত্ব ও শক্তির অন্যতম ভিত্তি। কর্মীদের শ্রম, ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপরই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সুবিধাভোগী ও চাটুকার শ্রেণি নেতৃত্বের কাছাকাছি অবস্থান করলেও প্রকৃত ত্যাগী কর্মীরা থেকে যান আড়ালে।
সাধারণ কর্মীদের জীবনসংগ্রামের বাস্তব চিত্রও কম বেদনাদায়ক নয়। অনেক কর্মী পরিবার-পরিজনের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকেন। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের ঝুঁকি নেন, মামলা-হামলার শিকার হন, কিন্তু প্রয়োজনে সবসময় কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পান না। এমনকি অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পরও অনেক কর্মীর পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের অভিমত, একটি দলের প্রকৃত শক্তি তার সাধারণ কর্মীরা। তাই শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের ব্যবহার না করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ একজন কর্মী অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল ও সামাজিকভাবে নিরাপদ থাকলে তিনি আরও বেশি নিষ্ঠার সঙ্গে দল ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন।
রাজনীতির ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—নেতৃত্বের উত্থান-পতন ঘটেছে বহুবার, কিন্তু দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই সংগঠনকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই সময়ের দাবি হলো, সাধারণ কর্মীদের মূল্যায়ন, সম্মান এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই বছরের পথচলা; কুড়িগ্রামে ‘প্রথম টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত

সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা