পাবনার আটঘরিয়ায় চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের অংশ হিসেবে নতুন গাইনী বিভাগ ও পুরুষ ওয়ার্ডের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সাথে স্থানীয় পেঁয়াজ চাষীদের লোকসান কমাতে ও পচন রোধে এয়ার ফ্লো মেশিন এবং সংরক্ষণ ঘর নির্মাণের সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তন ও উপজেলা কৃষি অফিসে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে নতুন ওয়ার্ডের শুভ উদ্বোধন করেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আটঘরিয়ার মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা সময়ের দাবি ছিল। সাধারণ মানুষ যাতে নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, সে লক্ষ্যে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।”
পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি দপ্তর আয়োজিত অপর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে ১০ জন নির্বাচিত কৃষকের হাতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ এবং সংরক্ষণ ঘর নির্মাণের সরকারি আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন এমপি।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। সঠিক সংরক্ষণের অভাবে যাতে পেঁয়াজ চাষীদের লোকসান গুনতে না হয়, সে জন্যই এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা। এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে পেঁয়াজের পচন রোধ হবে এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে ন্যায্যমূল্য পাবেন।”
অনুষ্ঠানগুলোতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটঘরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাহমিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্না, আটঘরিয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির হাফেজ আমিরুল ইসলাম এবং উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আলিম মাসউদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
উপস্থিত সুধীজন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বৃদ্ধি ও পেঁয়াজ সংরক্ষণে এই আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


