লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”   ​এদিকে নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।   ​সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করে জানান, মানবতার সেবায় নিবেদিত এই নতুন নেতৃত্বের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় এবং নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের মানবিক কার্যক্রম নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে নতুন কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।   ​বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা নবনির্বাচিত কমিটির সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে লালমনিরহাটে আর্তমানবতার সেবা আরও সুদূরপ্রসারী হবে।

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।

লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালক অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

‎লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভারতীয় এক ট্রাকচালককে অপহরণ, কুপিয়ে জখম এবং অর্থ ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ‎ ‎​সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এসএম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। ‎​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা সোনারভিটা এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সবুজ মিয়া (পলাতক), একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ওরফে বুলুর ছেলে ​মোঃ রমজান আলী ও ভাটিয়াবাড়ি এলাকার শামছুল হক ওরফে সামছুর রহমানের ছেলে ​মোঃ আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ। ‎ ‎​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে পাথর বহনকারী একটি ভারতীয় ট্রাক বুড়িমারী রোডে যান্ত্রিক কারণে আটকে যায়। ওই দিন গভীর রাতে (রাত ১টার দিকে) আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাকটি উদ্ধারের লোভ দেখিয়ে ভারতীয় চালক লক্ষ্মীনন্দর সিংকে (৩৭) একটি মোটরসাইকেলে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। ‎ ‎​পরদিন ২২ আগস্ট রাত ৩টার দিকে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে চালক লক্ষ্মীনন্দর সিংকে ধারালো চাকু দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ‎​ ‎​দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩৯৪ (দস্যুতা ও আঘাত) ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, সাজা দুটি একসঙ্গে চলবে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। ‎ ‎​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করছি। একজন বিদেশি নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার এই রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ‎