বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে ত্রিমুখী সংকটে বিপাকে জনজীবন

ঢাকা জেলার দক্ষিণ প্রান্তের তিন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা—দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে এখন জনদুর্ভোগের এক চরম প্রলয় চলছে। একদিকে তীব্র জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং—এই ত্রিমুখী যন্ত্রণায় নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবীদের।
তেল সংকটে থমকে গেছে চাকা। গত কয়েকদিন ধরে দোহার ও নবাবগঞ্জের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। অনেক স্টেশন থেকে মাইকে প্রচার করা হচ্ছে যে তেলের মজুত শেষ। যাও পাওয়া যাচ্ছে, তার জন্য কয়েক ঘণ্টা রোদে পুড়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট পরিবহণগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। অনেককে বোতল হাতে মাইলের পর মাইল হেঁটে জ্বালানি সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। পরিবহনের এই সংকটে নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে; পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় হু হু করে বাড়ছে কাঁচামালের দাম। স্থানীয় ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদামতো সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রান্নার গ্যাসের বাজারে ‘সিন্ডিকেটের’ থাবা। বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ মূলত এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। সরকারিভাবে খুচরা মূল্য ১,৭২৮ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। স্থানীয় বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায়। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের চেষ্টা করলেও সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট। ফলে নিম্নবিত্তরা নিরুপায় হয়ে আবার অস্বাস্থ্যকর লাকড়ির চুলার দিকে ঝুঁকছে।
বিদ্যুতের ‘ভেলকিবাজিতে’ স্থবির জনপদ। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দিনে-রাতে অন্তত ৬ থেকে ৮ বার লোডশেডিং এখন এই এলাকার নিয়মিত ঘটনা। বিদ্যুৎ কখন আসবে বা কখন যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। তীব্র গরমে একদিকে জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠা-নামায় নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কল-কারখানার উৎপাদন এবং কৃষকের সেচ ব্যবস্থা—সবই এখন স্থবির। বিশেষ করে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন; রাতে কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ শুরু করলেও লোডশেডিংয়ের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায়, তার কোনো ঠিক নেই, পুরোটাই যেন ভেলকিবাজী।” তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় তারা শিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভুক্তভোগী জনসাধারণের মতে, সরকারকে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি করতে কোনো কুচক্রী মহল বা শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে তৎপর রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে বলে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন। তারা মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং