নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূ মেরিনা বেগম (৪৫) কে নৃশংসভাবে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মূল দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো উপজেলার মড়লই গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ বাবুল হোসেন (৪৯) ও মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ তারেক রহমান (২১)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেরিনা বেগমের সাথে দীর্ঘ পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে খেলনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের। মেরিনা বেগমের স্বামী হাসেন আলী ও তাদের পুত্র সন্তান কাউসার জীবিকার তাগিদে কুমিল্লায় অবস্থান করছেন সেই সুযোগেই নিহত মেরিনার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে অভিযুক্ত বাবুল হোসেনের।
সম্পর্কের একপর্যায়ে মেরিনা বাবুল হোসেনকে বিয়ের জন্য অনবরত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এমনকি তাকে বিয়ে না করলে বাবুল হোসেনের বাড়িতে অবস্থান কর্মসূচির ব্যাপারেও তাকে হুমকি প্রদান করতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে অপর ৩ জন আসামির সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে গত রবিবার মেরিনা বেগমকে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নেয় বাবুল হোসেন। আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর নামক স্থানে নিয়ে চারজনের হত্যাকারী দল প্রথমে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা পরবর্তীতে আলামত নষ্টের অংশ হিসেবে মৃতদেহের শরীরে অগ্নিসংযোগ করে।
গত ১৮ ই আগস্ট অজ্ঞাত হিসেবে ওই নারীর অর্ধদগ্ধ লাশ উদ্ধার হলে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে পরকিয়া ও হত্যাকারীদের সম্পর্কে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে গঠিত পুলিশের একটি টীম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামি সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তার অপর সহযোগী তারেক রহমানকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বেল্টসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত আরো বাকি দুই জনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মিন্টু রহমান।

