তিস্তাপাড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে আসবাবপত্র

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিকবার পরিদর্শন ও আশ্বাসের পরও শেষ রক্ষা হলো না গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ভয়াবহ নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়ায় শেষ পর্যন্ত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকায় তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক বসতবাড়ি ও তিন শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এলাকা পরিদর্শন করায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আশা করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেই আশাও পূরণ হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালও স্কুলে ক্লাস হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে পরিস্থিতি দেখে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাই। পরে ১৪ জন শ্রমিক দিয়ে বিদ্যালয়ের আসবাব ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছি। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে চলে গেছে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মন্ত্রী, এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি ও ইউএনও সবাই এসেছেন। শুধু আশ্বাস পেয়েছি। স্কুল এলাকায় একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। সময়মতো জিও ব্যাগ ফেললে হয়তো আজ এ দৃশ্য দেখতে হতো না।’
কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিশেষ করে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এ করুণ দৃশ্য দেখতে হতো না।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘নদীভাঙন শুরুর পর থেকে পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সে কারণেই আজ এ ভয়াবহ পরিস্থিতি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়ার পর বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ‘আশা করি, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।’
তিনি বলেন, স্কুল এলাকায় আগে কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। তবে গত বছর বিদ্যালয়ের আপ ও ডাউনস্ট্রিমে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এ বছর বিদ্যালয়টি রক্ষায় কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ ছিল না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন