সাতক্ষীরায় লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে দলছুট কালো মুখো হনুমান। বিরল প্রজাতির কালো মুখো হনুমান শুধু মাত্র সাতক্ষীরার গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে না, ছুটছে বসত বাড়িতেও। খাদ্যের অভাবে দল ছুট হয়ে পড়েছে কালো মুখো হনুমান। কোথাও ৬টি আবার কোথাও ৪ থেকে ৫টি এক সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। উৎসুক জনতা হনুমানগুলো দেখার জন্য এই ভিড় করছেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারে ৫/৬টি কালো মুখো হনুমানকে দলবদ্ধ ভাবে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,সম্প্রতি দল ছুট হনুমান এলাকায় ঘুরা ঘুরি করে। তবে তারা কাউকে কোন ক্ষতি করছে না। এলাকার বিভিন্ন গাছে, বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীরের ওপর চলাচল করতে দেখা যায় কালো মুখো হনুমান। উৎসুক জনতার মধ্যে অনেকে হনুমানগুলোকে কলা, বিস্কুট, লেবু, পাউরুটি খেতে দিচ্ছে। অনেকে আবার হনুমানকে নানা ভাবে বিরক্তও করছে।
জানা গেছে,যশোর জেলার কেশবপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা বালিয়াডাঙ্গা, ব্রহ্মকাঠি, রামচন্দ্রপুর, দুর্গাপুর, সাবদিয়া, মজিদপুর এলাকায় প্রায় ৫০০টি হনুমান বসবাস করে। তবে কেশবপুর পশু হাসপাতাল ও খাদ্য গুদাম এলাকায় এগুলোকে বেশি দেখা যায়। কবি মাইকেল মধুসূদনের স্মৃতি বিজড়িত সাগরদাঁড়ি গ্রামের “মধু পল্লি” দেখতে সারাবছর কমবেশি পর্যটক আসেন। তাদের দেওয়া খাবারেই এসব হনুমানের জীবন চলতো। যশোরের কেশবপুর এলাকার সংবাদ কর্মী আব্দুর রহমান জানান,যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার হনুমান গুলোকে প্রাণী বিভাগের তত্ত্বাবধানে খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে কোনো কারণে খাদ্য সংকট দেখা দিলে মাঝে-মধ্যেই কিছু হনুমান লোকালয়ের দিকে চলে যায়। কখনো কখনো অধিক খাদ্য ও ভালো আবাসের সন্ধানে মাইলের পর মাইল অতিক্রম করে এসব কালো মুখো হনুমান।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, কালো মুখো হনুমান বনের বাইরে বাস করা হনুমানের একটি প্রজাতি। বৈশ্বিক বিরূপ আবহাওয়া,মানুষের উৎপাত,খাদ্য সংকটি এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে হনুমান গুলো দলে দলে এলাকা ত্যাগ করে থাকে।
সূত্রটি আরও জানায়,লোকালয়ে আসা কোনো কোনো হনুমান বনে ফিরে যায়,অনেক হনুমান মারাও যায়। লোকালয়ে এলে হনুমান গুলোকে বিরক্ত না করে সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় খাবার দিয়ে তাদের প্রাণ বাঁচানোর আহ্বান জানান প্রাণি সম্পদ অফিসের ওই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন