জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 23-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

উত্তোলনের রেকর্ড বিক্রিতেধস সংকটে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া শিলা খনি

 মোঃ মশিউর রহমান

দেশের একমাত্র গহ্বরভিত্তিক (আন্ডারগ্রাউন্ড) কঠিন শিলা খনি—দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া—উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও পাথর বিক্রির ধীরগতির কারণে গভীর সংকটে পড়েছে। জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কৌশলগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও বাজারজাতকরণে সীমাবদ্ধতা, শ্রমিক অসন্তোষ এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি খনিটির টেকসই অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ১৯৭৪ সালে মধ্যপাড়ায় প্রায় ১২৮ মিটার গভীরে কঠিন শিলার অস্তিত্ব শনাক্ত করে। পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১ দশমিক ৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখানে আনুমানিক ১৭২ মিলিয়ন টন কঠিন শিলার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭২ মিলিয়ন টন শিলা উত্তোলনযোগ্য বলে ধারণা করা হয়।
পেট্রোবাংলার আওতাধীন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) খনিটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে। উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জার্মানিয়া–ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)-এর সঙ্গে ২০২১ সালে ছয় বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়। বর্তমানে তিন শিফটে খনির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং দৈনিক গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে খনি থেকে প্রায় ১৩ দশমিক ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। এই পাথর দেশের সড়ক, সেতু, রেলপথ, বন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পাথর আমদানির ওপর নির্ভরতা কমছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।
তবে উৎপাদনের তুলনায় পাথর বিক্রির গতি আশানুরূপ নয়। এর ফলে খনির ইয়ার্ডে বিপুল পরিমাণ পাথর অবিক্রীত অবস্থায় জমে আছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ পরিবহন ব্যয়, পর্যাপ্ত বাজার চাহিদার অভাব এবং আমদানিকৃত পাথরের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই বিক্রি কম হওয়ার প্রধান কারণ।
এর পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ ও বিভিন্ন সময়ে কর্মবিরতির ঘটনাও খনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সম্ভাব্য ভূমিকম্প ঝুঁকি বিবেচনায় খনির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়, যা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পরিবেশগত দিক থেকেও খনিটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, পরিবেশ দূষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত ও সমন্বিত গবেষণা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। উৎপাদনের পাশাপাশি কার্যকর বাজার সম্প্রসারণ, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এই খনি জাতীয় অর্থনীতিতে আরও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চরমোনাই ইউনিয়নে তাঁতীদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

1

পাবনায় ডা. শফিকুর রহমান চাঁদাবাজ-দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্ত

2

সীতাকুণ্ড ভাটিয়ারী মাটিটা রোডস্হ মাদ্রাসার হুজুরের বিরুদ্ধে

3

বান্দরবানে জমি জোরপূর্বক জবর খলের চেষ্টার ও চাঁদাবাজির অভিয

4

পাবনায় নকল দুধ তৈরির কারখানার সন্ধান, মালিককে এক বছরের জেল

5

খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় বেনাপোলে ক

6

কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির গণসমাবেশে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন

7

সুবর্নচর উপজেলা বিক্রয় প্রতিনিধি এসোসিয়েশন এর ৫ম বর্ষপূর্তি

8

বিএসএফের আটক ৫ বাংলাদেশি নাগরিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির

9

ইশ্বরগঞ্জে সরাতী হোছাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শান্তিপূর্ণ পরিবে

10

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে মহিলা দলের বহিষ্কৃত

11

ঝিনাইদহে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে হামলা

12

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল চৌধুরী ইউপি চ

13

শেষ কর্মদিবসে বগুড়া বাসীকে যে বার্তা দিলেন জেলা প্রশাসক মহা

14

পলাতক ধর্ষক আইয়ুব আলী গ্রেফতার

15

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা

16

নড়াইলে ১২শত রোগীকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান

17

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সং"ঘর্ষ অন্তত ১৫ জন আ"হ"ত

18

মোটরসাইকেল প্রতীক পেলেন মামুন অর রশিদ

19

শিবচরে স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনাকারীদের বিচারে

20