দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং মুক্তিকামী মানুষের অসীম সাহসিকতার মধ্য দিয়ে আজকের এই দিনে (১১ ডিসেম্বর) দিনাজপুরের হিলি অঞ্চল হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয়। এই দিনটি ৭ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন হিলিবাসীর জন্য বিজয়ের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হিলির মুহাড়াপাড়া এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল এক বড় ধরনের সম্মুখযুদ্ধ। এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী মানুষ সেদিন সম্মিলিতভাবে অসীম সাহসিকতায় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে, হানাদার বাহিনীও মেতে উঠেছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞে।
মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন,
"হিলির মুহাড়াপাড়া গ্রামে মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের প্রচণ্ড সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন ৭নং সেক্টরের আনোয়ারসহ ৩৪৫ জন মুক্তিসেনা। আহত হয়েছিলেন প্রায় ১৪শ’ জন।"
অসংখ্য মুক্তিসেনার আত্মত্যাগ ও রক্তে ভেজা এই যুদ্ধের পর প্রবল প্রতিরোধের মুখে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। সেইসঙ্গে গা ঢাকা দিয়েছিল স্থানীয় রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্যরা।
আনন্দের উল্লাসে হিলিতে ওড়ে বিজয়ের নিশান
দীর্ঘদিনের বন্দী দশা ও ভয়াবহতা পেরিয়ে ১১ ডিসেম্বর হিলি শত্রুমুক্ত হওয়ার পর
এলাকাবাসী বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে। আজকের এই দিনে আনন্দ উল্লাসে মুক্তিকামী মানুষ লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করেছিল। হিলির এই বিজয় শুধুমাত্র একটি অঞ্চলের স্বাধীনতা নয়, এটি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।
প্রতি বছর এই দিনটি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে হিলিবাসী।মিত্র ও মুক্তিবাহিনী
সহ সব শহীদদের স্মরণে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘সম্মুখ সমর’।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ডিসেম্বর) স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হল হিলি মুক্ত দিবস।
মন্তব্য করুন