বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সারা দেশের মত সোনাগাজীতেও জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। সংকটের এ সময়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানামুখী উদ্যোগ নিলেও সারা দেশে অটোরিকশার মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় রোধ কিছুতেই করা যাচ্ছে না।
দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে। সিপিডি’র তথ্য বলছে- প্রতিদিন অন্তত জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেই। সোনাগাজীতেও বরাদ্ধের ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে অটোরিকশা চার্জ দিতে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে সোনাগাজী উপজেলায় কত সংখ্যক অটোরিকশা রয়েছে সঠিক পরিসংখ্যান প্রশাসনের কাছে নেই। তবে পুরো উপজেলায় বিভিন্ন সুত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে প্রায় ৬ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। শুধু সোনাগাজী পৌর কর্তৃপক্ষ ১ হাজারের ওপরে অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান করেছে। লাইসেন্স প্রদানে প্রতিটি অটোরাশা মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ১৫শ টাকা। কাগজে কলমে অটোরিকশা বৈধতা না থাকলেও অবৈধ অটোরিকশার বৈধ আয় প্রথা চালু করে পকেটে ডুকাচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সোনাগাজী পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোস্তাফা কামাল বলেন,অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৫- ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের হয়ে থাকে। দিনে যা চার্জ হতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। প্রতিটি রিকশার ব্যাটারি চার্জের জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,উপজেলায় ৫৯ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আমরা সরবরাহ পাচ্ছি ৮-৯ থেকে মেগাওয়াট। প্রায় ৬ হাজার অটোরিকশার বিপরীতে প্রতিদিন সোনাগাজীতে খরচ হচ্ছে বরাদ্ধের ২ মেগাওয়াটের ওপরে বিদ্যুৎ।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, বরাদ্ধের ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ অটোরিকশার চার্জ দিতে খরচ হয়ে যাওয়াতে গরমে লোডশেডিং ছাড়া কর্তৃপক্ষের আর কোনো উপায় থাকেনা। এছাড়াও প্রতিদিন নতুন অটোরিকসা রাস্তায় নামছে। বিদ্যুতের সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসলেও ব্যাটারি রিকশার চার্জ দিতে বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে।
এদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে পুরো উপজেলায় জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। দিনে রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটেছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের প্রশ্নবানে সুখবর দিতে পারছেনা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
মাধ্যমিকের স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, বরাদ্ধের ২৫ শতাংশ যদি ব্যাটারি রিকশার চার্জ দিতে খরচ হয়ে যায় তাহলে মানুষের ভোগান্তি কিছুতেই কমবেনা।এ বিষয়ে সরকারের উচিত দ্রুত নীতিমালা তৈরী করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অটোরিকশা জব্দ করা।
তিনি আরো বলেন অটোরিকশার আয়ের উপর বহু পরিবার নির্ভরশীল হলেও অটোরিকশার সড়কের যত্রতত্র চলাচলের কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অধিকাংশ অটোরিকশা চালক অপ্রপ্তবয়স্ক,তাদেও নেই কোন প্রশিক্ষন।
জাহিদ হোসেন নামে অটোরাকশা চালক বলেন বেকারত্বের কারনে অনেকে উপায়হীন হয়ে অটেরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ তৈরী না হলে অটোরিকশার সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
নাম প্রকাশ না শর্তে রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি বলেন,বিদ্যুতের অপচয় রোধে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। একই সাথে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যাবে। তাছাড়া অনেক অটোচালক নানা অপরিধের সাথে জড়িয়ে পড়েছে,অনেকে আবার মাদক গ্রহন ও বেচাকেনার সাথেও জড়িত। আনাড়ি অটোচালকের কারনে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শারিরীকভাবে চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অটোরিকসা নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে স্দিান্ত নেওয়া হয়েছে পৌর শহরে ১৫ শ বেশী অটোরিকশা চলাচলের অুনমোদন দেওয়া হবেনা। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন মানবিক দিক বিবেচনায় নিলেও অটোরিকশার চার্জ দিতে বরাদ্ধের বড় অংশ বিদ্যুৎ খরছ হচ্ছে। যার কারনে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি জনভোগান্তি বেড়েছে। সরকার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।


