রংপুর নগরীর আনসারী মোড়ে অটোরিকশা গ্যারেজে মালিককে হত্যার পর টাকা লুটের অভিযোগ, তালাবদ্ধ ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার

রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন আনসারী মোড় এলাকায় নিজ অটোরিকশা গ্যারেজের তালাবদ্ধ ঘর থেকে আব্দুর রহমান (৬৫) নামে এক গ্যারেজ মালিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
​বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে নগরীর আনসারীর মোড় এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার মৃত তামিরুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ আগস্ট সকালে স্থানীয়রা গ্যারেজের বাইরে রক্ত দেখতে পান। এসময় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ এবং বাইরে তালা ঝুলানো ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং সিআইডির একটি বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানান, বুধবার রাতে দুষ্কৃতকারীরা আব্দুর রহমানের মাথায় মারাত্মক আঘাত বা কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে এবং বাইরে থেকে গ্যারেজে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে এবং যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহমান বৃদ্ধ বয়সে তিনটি বিয়ে করেছিলেন। সর্বশেষ বিয়ের সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলেও তিনি তা শোনেননি, যার ফলে অভিমান করে পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ প্রায় বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি তৃতীয় স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি গ্যারেজ সংলগ্ন ওই কক্ষে একাই বসবাস করতেন।
​নিহতের ছেলে মো. রুবেল মিয়ার দাবি, বাবার কক্ষে থাকা আলমারিতে কয়েক লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিল। দুর্বৃত্তরা সেই আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করেছে এবং বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
​এদিকে নিহতের পুত্রবধূ রেবেকা জানান, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে সরাসরি কথা না হলেও প্রতিদিন তারা তাকে গ্যারেজে দেখতেন। বুধবার রাতেও তিনি স্বাভাবিকভাবে গ্যারেজের কক্ষে ঘুমাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সকালে তার মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পান। পরিবার ও স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন