বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মেটাকে বড় অঙ্কের জরিমানা

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং শিশুদের অনলাইন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার দায়ে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি জুরি বোর্ড দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের শুনানি শেষে এই রায় প্রদান করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই টেক জায়ান্ট তাদের প্ল্যাটফর্মে বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে শিশু যৌন শোষণ ও মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধের পথ প্রশস্ত করেছে।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, মেটা জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন পরিবেশ বজায় রেখেছে যেখানে শিশুদের ওপর লালসাগ্রস্ত ব্যক্তিদের বা ‘প্রিডেটরদের’ অবাধ বিচরণ ছিল। জুরি বোর্ড তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে যে, মেটা নিউ মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন মোট ৭৫ হাজার বার লঙ্ঘন করেছে। প্রতিটি লঙ্ঘনের বিপরীতে ৫ হাজার ডলার করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে জরিমানার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারে। আদালতের এই রায়কে শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল তোরেজ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কোনো বড় কোম্পানিই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং জননিরাপত্তার বিষয়ে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

এই মামলার মূল ভিত্তি ছিল ২০২৩ সালের একটি অত্যন্ত গোপন ও সংবেদনশীল তদন্ত। সেই সময় তদন্তকারীরা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিচয়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট খোলেন। অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে দেখা যায় যে, অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই সেই ছদ্মবেশী শিশুদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন বার্তা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আপত্তিকর যোগাযোগের অনুরোধ আসতে শুরু করে। আদালত মনে করে, মেটা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে বরং এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে এক প্রকার প্রশ্রয় দিয়েছে, যা বাস্তব জীবনেও শিশুদের জন্য মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে আদালতের এই রায়ের সঙ্গে মেটা কর্তৃপক্ষ একমত হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। মেটার দাবি, প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া এবং তাঁরা নিয়মিতভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে, মেটা ব্যবহারকারীদের কাছে ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। যদিও জুরি বোর্ড মেটার এই আত্মপক্ষ সমর্থনকে পর্যাপ্ত মনে করেনি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কে এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মেটার বিরুদ্ধে আরও হাজার হাজার মামলা চলমান রয়েছে, যেখানে প্ল্যাটফর্মের ডিজাইন এমনভাবে করার অভিযোগ আনা হয়েছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে। আগামী মে মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত মেটাকে তাদের প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রায় মূলত ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ধর্মপাশায় ৭ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও ১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দেখেন ১১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা একটি হাওর বেষ্টিত উপজেলা।যা আয়তনের দিকে অনেক