পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভূমি অফিসে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। মঙ্গলবার ভূমি সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব অভিযোগ করেন ভূমি মালিকরা। এর আগে জেলা প্রশাসকের মত বিনিময়ে সভায় একই অভিযোগ করেন ভূমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ ঘুষ দিয়েও সেবা পেতে দিনের পর দিন হয়রানি হতে হয়।
জানা যায়, মঙ্গলবার ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের হলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একাধিক সেবা গ্রহীতা বক্তব্যে বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ দিয়েও সেবা পেতে দিনের পর দিন হয়রানি হতে হয়। এর আগে গত ১২ মে পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মতবিনিময় সভা করেন। এতে ওই জেলা প্রশাসক প্রশাসনের সেবার বিষয়ে সুশীল সমাজ সহ সাধারণ মানুষের বক্তব্য শুনতে চান। এ সময় ভূমি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন সুশীল সমাজের ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন সেবা গ্রহীতারা। এছাড়া আলমগীর হোসেন নামে একজন দলিল লেখক প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূমি অফিসে নামজারিতে ঘুষের লেনদেনের অভিযোগ করে পোস্ট করেন। পরে অবশ্য ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা তদবির করে এসব পোস্ট ডিলিট করান।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশে নৈশ্য প্রহরী ও ঝাড়ুদাররা এই ঘুষের লেনদেন করেন। এর আগে একাধিক বার এসব ঘটনায় জেলা প্রশাসন তদন্ত করেন। এসব অভিযোগের সত্যতা পেলেও শুধুমাত্র উপসহকারী কর্মকর্তাকে বদলি করে বিষয়গুলো শেষ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে অষ্টমনীষা ইউনিয়নের ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় নামজারির ফাইল রিজেক্ট করা হয় কাগজপত্রের অভাবে। পরে আবার ঠিক করে দিলে নামজারি হয়। কিন্তু অনেকেই সেটা বুঝতে না পেরে অভিযোগ করেন। এখন দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন,এসব অভিযোগ ওঠার পর ভূমিসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। সেখানে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা দিতে বলা হয়েছে। এর বাইরে একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়বের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটিও যাচাই করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ওই জমিটি আইনত নামজারির সুযোগ নেই। আর অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে তথ্যন প্রমাণ সহ একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


