নদী–খাল–বিলের দেশীয় মাছ ও শামুক রক্ষায় একদিকে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে প্রান্তিক জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত উদ্যোগ—এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৬০ জন নিবন্ধিত প্রান্তিক জেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৬০টি বকনা বাছুর। সরকারের “দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)”–এর আওতায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা ক্যাম্পাস মাঠে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ বিশ্বাস, উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ খাইরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রাকিবুল ইসলাম এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার দেবাশীষ বাছাড়। এছাড়াও টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আইয়ুব আলি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগী জেলেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক আজ হুমকির মুখে। অবৈধ ও ক্ষতিকর ‘চায়না জাল’-এর ব্যবহার ছোট মাছ ও পোনা নিধনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। পাশাপাশি নির্বিচারে শামুক আহরণও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এসব বন্ধে জেলেদের সচেতনতা ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রধান অতিথি মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রাকৃতিক জলাশয়ে অবাধে চায়না জাল ব্যবহার দেশীয় মাছের জন্য মারাত্মক হুমকি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। সরকার নির্ধারিত সময় ও বিধিনিষেধ অনুসরণ করে মাছ আহরণ করলে আমাদের জলজ সম্পদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, “জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। গবাদিপশু পালন করে তারা নিয়মিত আয় করতে পারবেন। এতে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা সহজ হবে এবং আইন মানতে আরও উৎসাহ পাবেন।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, বাছুরগুলোর নিয়মিত টিকাদান, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে উপকারভোগীরা সঠিকভাবে গবাদিপশু পালন করে লাভবান হতে পারেন।
বকনা বাছুর পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী জেলেরা। তাদের ভাষ্য, বছরের নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এখন গবাদিপশু পালন থেকে দুধ ও বাছুর বিক্রির মাধ্যমে আয়ের নতুন পথ তৈরি হবে। এতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং পরিবারে আর্থিক স্থিতি আসবে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, পর্যায়ক্রমে আরও নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে এ ধরনের সহায়তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণে সচেতনতামূলক প্রচার, নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
সরকারের এ উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়ার প্রান্তিক জেলেদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন তারা।


