শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নোবিপ্রবি প্রশাসনের পদত্যাগে ৭ দিনের আলটিমেটাম, অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ

আগামী সাত দিনের মধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের পদত্যাগের দাবিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নোবিপ্রবি সাদা দল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ নোবিপ্রবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র উপস্থাপন করেন।
শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়, গত ১৭ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, নীতিমালা লঙ্ঘন ও বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে ৩১ জন জামায়াতপন্থী এবং মাত্র ৩ জন বিএনপি ও অন্যান্য মতাদর্শের। ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জনই জামায়াতপন্থী; তাদের মধ্যে ৭ জন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারি। একইভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৯ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৫ জনই জামায়াত মতাদর্শের অনুসারী বলে দাবি করা হয়।
পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রায় ৯ জন শিক্ষকের একাডেমিক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, এদের মধ্যে দুইজনের কোনো স্কোপাস ইনডেক্সড প্রকাশনা বা সাইটেশন নেই। বক্তাদের দাবি, এতে বোঝা যায় মেধা ও গবেষণার মানের চেয়ে দলীয় পরিচয় নিয়োগে প্রাধান্য পেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নিয়োগ বোর্ডে বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিছু বিভাগে একজন প্রার্থী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও লিখিত পরীক্ষা ও নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করার অভিযোগও তোলা হয়।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী বণ্টনে বৈষম্য হয়েছে,সাধারণ শিক্ষকরা যেখানে ২৬ হাজার টাকা পেয়েছেন, সেখানে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার কয়েক লাখ টাকা করে নিয়েছেন। প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ সংস্কারে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়, যখন বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সংকটে ভুগছে।
পাঁচ লাখ টাকার বেশি অর্থের একটি চেক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অজ্ঞাতে চেক উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেম স্থাপনে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। দাবি করা হয়, টেন্ডার ছাড়াই চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
নোবিপ্রবি সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান প্রশাসনের পদত্যাগ প্রয়োজন। আগামী সাত দিনের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। তিনি উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে নোবিপ্রবি সাদা দলের শিক্ষকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. আবিদুর রহমান, মো. জামাল উদ্দিন, মো. আব্দুর বারেক, মিনহাজুল আবেদীন, মোকাররম হোসেন, সাদ্দাম হোসেনসহ অনেকে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং